প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের উন্মাদনায় গোটা দেশ যখন মেতে উঠেছে, তখন নারায়ণগঞ্জের একজন ভক্ত প্রিয় দল নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে ভিন্ন এক উন্মাদনায় মেতে উঠেছেন। তিনি নিজের বাড়ির একটি সম্পূর্ণ ঘরকে ডাচ ফুটবলের নানা দুর্লভ স্মৃতি ও স্মারক দিয়ে সাজিয়ে তুলেছেন, যা সত্যিই চমকপ্রদ। তার সাজানো এই ঘরটি দেখলে সহজেই মনে হবে, এটি যেন বাংলাদেশের বুকে একটি ছোট্ট নেদারল্যান্ডসের রূপ।
রোববার (৭ জুন) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা লস্করের বাড়িতে গিয়ে এরকম এক অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়। পেশায় প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে নেদারল্যান্ডস ফুটবল দলের প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করে আসছেন।
৪৬ বছর বয়সী এই ফুটবলপ্রেমী প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার সংগ্রহে রয়েছে দেড় শতাধিক দুর্লভ স্মারক। পুরো ঘরজুড়ে দেখা যায় নেদারল্যান্ডস দলের বিভিন্ন সময়ের জার্সি, টি-শার্ট, জ্যাকেট, ট্রাকস্যুট এবং পতাকা। বিছানার চাদর থেকে শুরু করে চাবির রিং, লাইটার, অ্যাশট্রে, খেলনা গাড়ি, পানির মগ, ফ্লাস্ক, প্লেট, ক্যালেন্ডার, বেলুন, মাথার ক্যাপ, রিস্টব্যান্ড, দেয়াল ঘড়ি, সাইড ব্যাগ, ল্যাপটপ প্যাডসহ মেঝের কার্পেট পর্যন্ত সবকিছুতেই রয়েছে ডাচ ফুটবলের ছাপ।
শুধু ঘরের ভেতরেই নয়, তার ছয়তলা বাড়ির বাইরের দেয়াল, বারান্দা এবং ছাদকেও তিনি নেদারল্যান্ডসের পতাকা দ্বারা সাজিয়ে তুলেছেন। তবে সেখানে শুধুমাত্র ডাচদের পতাকা নয়, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলের পতাকাও রয়েছে, যা বাড়িটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বদরুদ্দোজা লস্কর জানান, ১৯৭৪ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস ফুটবল দলের সমস্ত ধরনের জার্সি তার সংগ্রহে রয়েছে। তিনি দেশের বিভিন্ন স্থান এবং বিদেশ থেকে দলটির ৮০ ধরনের শতাধিক জার্সি এবং টি-শার্ট সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে খেলা দলের একটি জার্সিও, যা তিনি ফ্রান্সপ্রবাসী এক শুভাকাঙ্ক্ষীর মাধ্যমে অর্জন করেছেন।
তার বিশাল সংগ্রহশালায় আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্র্যাকটিস কিট, পেন্যান্ট, স্কার্ফ, ব্যানার, ডামি বিশ্বকাপ ট্রফি, ছোট-বড় অসংখ্য ফুটবল, শর্টস, লুঙ্গি, আইডি কার্ড এবং তারকা খেলোয়াড়দের ছবি সম্বলিত প্লেয়িং কার্ড। ছুটির দিনগুলোতে তিনি পরিবারকে সময় দেয়ার পাশাপাশি তার প্রিয় ঘরটিকে যত্ন অফিস আদেশে পরিচালনা করেন।
যদিও বদরুদ্দোজা লস্কর নেদারল্যান্ডসের অন্ধ ভক্ত, তবে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ভিন্ন দলের সমর্থক। তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মিলি আর্জেন্টিনার সমর্থক এবং বড় ছেলে আমির হামজা শ্রেষ্ঠ ও ছোট ছেলে সাদ আব্দুল্লাহ তায়েব জার্মানির ভক্ত।
ভিন্ন দলের সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যরা কখনও তার ভালোবাসায় বাধা হয়ে দাঁড়াননি; বরং তারা তাকে উৎসাহ দিয়েছেন। স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মিলি সময় সংবাদকে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। তবে বিয়ের পর থেকে আমি দেখতে পাচ্ছি আমার স্বামী নেদারল্যান্ডসের অনুগত সমর্থক। আমাদের দুই ছেলে জার্মানির সমর্থক। আমাদের পরিবারে কারও সঙ্গে মতের কোনো অমিল নেই। তবে মাঝে মাঝে বাবা-ছেলের মধ্যে খুনসুটি হয়, এটিও তিনি বেশ উপভোগ করেন। নেদারল্যান্ডসের প্রতি আমাদের প্রতি সবার উৎসাহ রয়েছে। তার এই রুমটা দেখতে আমাদেরও খুব ভালো লাগে।’
ফুটবল বুঝতে শেখার পর ১৯৮৮ সালে নেদারল্যান্ডসের ইউরো কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দেখার পর থেকেই তিনি দলটির ভক্ত হয়ে যান। এ প্রসঙ্গে তার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি সময় সংবাদকে বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপে তিনবার ফাইনালে খেলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। তবে এবারের টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে নেদারল্যান্ডস দুর্দান্ত সব তারকাদের নিয়ে শক্তিশালী দল গঠন করেছে। দলের রক্ষণভাগ, মিডফিল্ড এবং আক্রমণভাগ সব ক্ষেত্রেই দলটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।’
লস্কর আরও বলেন, ‘এবারের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের ব্যাপারে আমি খুবই আশাবাদী। আমার বিশ্বাস, আমার প্রিয় দল নেদারল্যান্ডসই এবারের বিশ্বকাপ ট্রফি জয় করে ঘরে ফিরবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন