প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গুজরাট সরকারের পক্ষ থেকে ইউসুফ পাঠানকে একটি বিতর্কিত জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাঠান, যিনি ভারতের সাবেক ক্রিকেটার এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক সংসদ সদস্য, বরোদা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (ভিএমসি) অধীনে থাকা জমিটি পাবেন। জমির আয়তন ৯৭৮ বর্গমিটার, যা তান্দালজা এলাকায় অবস্থিত।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫০০ বর্গমিটার জমি পাঠানকে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে, যা তিনি থাকার কাজে ব্যবহার করবেন। বাকি ৪৭৮ বর্গমিটার জমি তিনি কিনবেন, যার দাম হবে মূল্যায়ন করা দামের ৫৫ শতাংশ। ভিএমসির কমিশনার অরুণ মহেশ বাবু নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারের অনুমোদন এসেছে পাঠানের চাওয়া জমির বিষয়ে। তিনি উল্লেখ করেন, "তবে খুঁটিনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রস্তাবটিকে ভিএমসির স্থায়ী কমিটি ও সাধারণ বোর্ডের অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।" প্রথমে স্থায়ী কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবে এবং পরে সাধারণ বোর্ডে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর, ২০২৬ সালের ১৪ জুন ইউসুফ পাঠান এবং তৃণমূলের আরও কয়েকজন বিদ্রোহী লোকসভা সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ায় যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। সংক্ষেপে দলটির নাম এনসিপিআই। পাঠান এই দলের জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।
ভিএমসির ভূমি ও সম্পত্তি বিভাগ জমির প্রস্তাবটি তৈরি করেছে। জমিটি তান্দালজার টাউন প্ল্যানিং স্কিম ২২-এর ৯০ নম্বর চূড়ান্ত প্লট। ভিএমসির অনুমোদিত হিসাবে প্রতি বর্গমিটারের দাম ২ লাখ ১০ হাজার রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, জমির আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ কোটি ৫৩ লাখ রুপি।
সরকারের আদেশ আগস্টের শেষের দিকে ভিএমসির কাছে পৌঁছায়। এরপর ইউসুফ পাঠান হাইকোর্টে করা তার আপিল তুলে নেন, যা তার আগের দাবি খারিজের বিরুদ্ধে ছিল।
আদেশ অনুযায়ী, ৪৭৮ বর্গমিটারের দাম নির্ধারণ করা হবে ২০২৬ সালের ১৭ মার্চের মূল্যায়নে, যা বরোদা আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির মূল্যায়ন কমিটি দ্বারা মূল্যায়িত হয়েছে। এতে পাঠান ৪৫ শতাংশ ছাড় পাবেন।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি ভবিষ্যতে একই ধরনের মামলার জন্য নজির হবে না। রাজস্ব বিভাগ ভিএমসিকে সমান মূল্যের অন্য জমি প্রদান করবে।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে ২০১২ সালে, যখন পাঠান তার পরিবারের বাড়ির পাশের জমিটি ৯৯ বছরের ইজারায় চান। আবেদনে তিনি নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেন এবং জানান যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে তার পরিচয়ের কারণে ঝুঁকি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, পাশের জমি থাকার ফলে সুবিধা হবে।
স্থায়ী কমিটি ও সাধারণ বোর্ড নিলাম ছাড়াই সরাসরি তাকে জমি দিতে রাজি হয়। প্রস্তাবটি রাজ্য সরকারের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। ২০১৪ সালের জুনে নগর উন্নয়ন বিভাগ প্রস্তাবটি নাকচ করে, কারণ হিসেবে বলা হয়, দামি জমির জন্য প্রকাশ্য নিলাম বা খোলা দরপত্র প্রয়োজন।
ভিএমসির অভিযোগ, প্রস্তাব নাকচের পরও পাঠান জমিতে বেড়া দিয়ে দখল করেন। ২০২৪ সালের জুনে বিষয়টি আবার সামনে আসে, যখন তিনি লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হন। তখন ভিএমসি তাকে নোটিশ দেয় এবং কথিত দখল সরাতে বলা হয়।
পাঠান এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যান। তার আইনজীবীরা আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের জমি দেওয়ার সরকারি নীতির কথা উল্লেখ করেন। ভিএমসির যুক্তি ছিল, জমিটি পৌরসভার। নিয়ম অনুযায়ী এটি কাউকে দেওয়া যায় না।
২০২৫ সালের আগস্টে হাইকোর্ট সরকারের নাকশের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখে। আদালত বলে, বরাদ্দের আদেশ ও টাকা ছাড়া দীর্ঘদিন জমি দখলে রাখলে তাতে আইনি অধিকার জন্মায় না।
এরপর পাঠান আপিল করেন। ২০২৬ সালের জুনে শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে। আদালত জানতে চায়, বরাদ্দের নিয়ম শেষ না করে ও টাকা না দিয়ে তিনি সরকারি জমি কীভাবে দখলে নিলেন। আদালত সতর্ক করে দেয় যে, দখল চালিয়ে গেলে তার আর্থিক দায় বাড়তে পারে। ৩১ আগস্ট পাঠান শর্ত ছাড়াই আপিল তুলে নেন। এরপর তিনি জমিটি নিয়ে সুখবর পান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন