প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার রূপকার ও ফ্যাসিস্টদের বিচার নিশ্চিত করার পরেই জাতীয় পুনর্মিলনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর অধীনে ‘মহাসংলাপ : ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও জাতীয় পুনর্মিলন’ শীর্ষক অধিবেশনে এ কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে জাতীয় পুনর্মিলন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ হলো রাষ্ট্রীয় সহিংসতায় জড়িতদের আইনি পরিণতি থেকে আড়াল করার অপচেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেন আর কেউ স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে না পারে, সেজন্য বিচারিক ও রাজনৈতিক কাঠামোগুলোকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
এ সময় তিনি এসব প্রতিষ্ঠানকে শাসকদের ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকে কেবল একটি সরকার পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখার বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, এটি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোর এক মৌলিক পুনঃসংজ্ঞায়ন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো এবং জনগণের নাগরিক স্বাধীনতা দমন করা একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে একজোট হয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা লড়াই করেছিল গণতান্ত্রিক মর্যাদা ও নিজেদের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য।
ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীরা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অংশ হওয়ার যোগ্যতা চিরতরে হারিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, রাজপথে যে চড়া মূল্য ও রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে, সে কথা স্মরণ রেখে এমন এক জবাবদিহিমূলক শাসনকাঠামো তৈরি করা হবে, যা যেকোনো স্বৈরতান্ত্রিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে নস্যাৎ করে দেবে।
সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিচারহীনতার রাজনীতির সংস্কৃতি শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বর্তমান সরকার জনগণের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে উল্লেখ করে আশ্বাস দেন, আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে এবং জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা হবে।
তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেশনে ডেপুটি স্পিকারের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট গবেষক ও চিন্তাবিদরা অংশ নেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীর, ভারতের রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়া স্টাডিজ সেন্টারের অধ্যাপক করোরি সিং, দক্ষিণ আফ্রিকার উইটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাদালিতসো জিলিলো ফিরি এবং কলম্বিয়ার সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক নিকি সিঙ্গার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন