প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে বসবাসকারী ভারতীয় পরিবারগুলোর মধ্যে ছেলে সন্তানের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা পক্ষপাতিত্বের কারণে কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই তাদের ওপর ‘লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা’ চালানো হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে একটি দাতব্য সংস্থা। সাম্প্রতিক কিছু তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, কন্যাসন্তান এড়াতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিভাবকেরা গর্ভপাতের (অ্যাবোরশন) আশ্রয় নিচ্ছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ‘জিনা ইন্টারন্যাশনাল’ (Jeena International)-এর প্রতিষ্ঠাতা রানি বিলখু এই উদ্বেগজনক প্রবণতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তাদের সংস্থা যেসব পরিবারকে সহায়তা দেয়, সেখানে অনেক নারীকে ছেলে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য তীব্র পারিবারিক চাপ, মানসিক নির্যাতন ও জোরজুলুমের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি আরও বলেন, "অনেক সংস্কৃতিতে মনে করা হয় কেবল একটি ছেলেই পরিবারে নারীর মর্যাদা বাড়াতে পারে এবং তাকে সার্থক প্রমাণ করতে পারে। যুক্তরাজ্যে অভিবাসী হওয়া অনেক নারীর ক্ষেত্রেই এই মানসিকতা ও পারিবারিক চাপ অপরিবর্তিত রয়েছে।"
অন্যান্য পরিসংখ্যান ও বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্যে ভারতীয় পরিবারগুলোর মধ্যে জাতীয় গড় হারের তুলনায় প্রতি ১০০ জন কন্যা শিশুর বিপরীতে ছেলে শিশু জন্ম নেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে তৃতীয় সন্তানটি মেয়ে হলে গর্ভপাতের মাধ্যমে তা নষ্ট করার এক ধরনের গোপন প্রবণতা বা পারিবারিক চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে লিঙ্গ নির্ধারণ করে গর্ভপাত করা সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই ধরনের লৈঙ্গিক বৈষম্য ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের ঘটনা মানবাধিকার কর্মী ও সমাজকর্মীদের ভাবিয়ে তুলছে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক এই প্রাচীন মানসিকতার কারণে একটি মেয়ে শিশু পৃথিবীতে আসার আগেই যেভাবে তার বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, তাকে ‘লৈঙ্গিক সহিংসতা’ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট অধিকার কর্মীরা। সূত্র : দ্য টাইমস।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন