প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যিনি বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত, তার দৈনন্দিন রুটিনের নানা দিক সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়ে থাকে। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তার খাদ্যাভাস সম্পর্কে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
৭৩ বছর বয়সী পুতিন শৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত। তিনি ভোরে ব্যায়াম করেন, শীতল পানিতে সাঁতার কাটেন এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ করেন। খাদ্যাভাসের ক্ষেত্রেও তার নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা রয়েছে।
পুতিনের খাদ্যতালিকায় মূলত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, ফারমেন্টেড বা গাঁজন করা দুগ্ধজাত খাবার, শাকসবজি এবং খুব কম পরিমাণে চিনি থাকে। তবে তার কাজের ব্যস্ততা এবং ভ্রমণের ওপর ভিত্তি করে দিনের অন্যান্য খাবারে কিছু পরিবর্তন আসে।
সকালের নাশতায় প্রোটিনের গুরুত্ব
পুতিনের সকালের নাশতা সবসময় নির্দিষ্ট থাকে। রাশিয়া বিয়ন্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণত এক বাটি পোরিজ দিয়ে দিন শুরু করেন। এর সঙ্গে থাকে টভোরগ, যা পূর্ব ইউরোপের একটি জনপ্রিয় টাটকা পনির, এবং এটি সাধারণত সামান্য মধুর সঙ্গে খাওয়া হয়।
এছাড়া, বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি কোয়েল পাখির কাঁচা ডিম পুরোটা খেয়ে থাকেন। নাশতায় বিটরুট ও হর্সর্যাডিশের ঝাঁঝালো জুসও থাকে।
চিনি প্রায় বাদ, মধুই প্রধান মিষ্টি
পুতিন সাধারণত অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলেন। নিয়মিত মিষ্টি হিসেবে তিনি মধুকেই প্রাধান্য দেন। তবে আইসক্রিম তার পছন্দের খাবারের একটি। তিনি নিজেও জানিয়েছেন, মাঝে মাঝে আইসক্রিম খান, কিন্তু এটি তার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকার অংশ নয়।
তার খাদ্যাভাসের মূল লক্ষ্য হলো এমন খাবার খাওয়া, যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দেয় না।
মাছ ও সবজিতে বেশি আগ্রহ
পুতিনের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত থাকে বিভিন্ন ধরনের সবজি। টমেটো, শসা ও সাধারণ সালাদ তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে। মাংস ও মাছের মধ্যে তিনি মাছ বেশি পছন্দ করেন, তবে খাসির মাংস বা ল্যাম্বও তার পছন্দের খাবার বলে জানা গেছে।
তিনি ভাত ও বাকউইট (বাজরা বা কুট্টুর চাল) পছন্দ করলেও ওটসের প্রতি তেমন আগ্রহ নেই বলে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন।
ব্যস্ত দিনে দুপুরের খাবারও হালকা
পুতিনের দুপুর বা বিকেলের খাবার অনেকটাই নির্ভর করে তার কাজের ব্যস্ততার ওপর। ব্যস্ত দিনে তিনি কখনো শুধু ফল অথবা এক গ্লাস কেফির খেয়েই সময় কাটান। কেফির হলো গাঁজন করা এক ধরনের দুধের পানীয়, যা হজমের জন্য উপকারী বলে পরিচিত।
দীর্ঘ সময় অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি সাধারণত সহজপাচ্য ও হালকা খাবার বেছে নেন।
রাতের খাবার অনেক সময় বাদই দেন
পুতিনের খাদ্যাভাসের সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো—তিনি প্রায়ই রাতের খাবার এড়িয়ে চলেন। বাড়িতে থাকা কিংবা বিদেশ সফর—দুই ক্ষেত্রেই সন্ধ্যার পর খাবার খুবই সীমিত রাখার চেষ্টা করেন।
বিদেশ সফরের সময় তিনি সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় খাবার চেখে দেখেন, তবে সেখানেও খাবারের পরিমাণ সাধারণত কম রাখেন।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন