প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যশ চোপড়ার কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘সিলসিলা’ হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত নাম। ছবিটির পেছনের বাস্তব জীবনের কাস্টিং নাটকীয়তা এবং পর্দার ভেতরের ত্রিভুজ প্রেমের গল্প ছাড়িয়ে দর্শকদের কৌতূহলকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। একসঙ্গে অমিতাভ বচ্চন, রেখা ও জয়া বচ্চনকে পর্দায় হাজির করা মোটেই সহজ ছিল না। একাধিক সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, রেখার উপস্থিতি মেনে নিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়া বচ্চন ছবিটিতে অভিনয়ে সম্মত হলেও, তার সম্মতির পেছনে ছিল একটি বিশেষ শর্ত।
‘সিলসিলা’র শুরুতে স্মিতা পাতিল ও পারভীন বাবিকে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় পরিচালক যশ চোপড়া রেখা ও জয়া বচ্চনের কাছে যান। রেখা রাজি হলেও, জয়া শুরুতেই অভিনয়ে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। জয়াকে রাজি করাতে যশ চোপড়া বর্ষীয়ান অভিনেতা সঞ্জীব কুমারের সাহায্য নেন, যাকে জয়া ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধা করতেন।
সঞ্জীব কুমারের অনুরোধে জয়া অবশেষে রাজি হন, তবে তিনি একটি চাঞ্চল্যকর শর্ত রেখে দেন। চলচ্চিত্র সাংবাদিক হানিফ জাভেরি জানান, জয়ার শর্ত ছিল—শুটিংয়ের সময় তার নিজের শট না থাকলেও বা সেটে প্রয়োজন না হলেও, তিনি সবসময় সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
সেটে সব সময় উপস্থিত থাকার মূল কারণ যে রেখা, তা নিয়ে সাংবাদিক হানিফ জাভেরি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। সেই সময়ে অমিতাভ বচ্চন ও রেখার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুঞ্জন বিনোদন জগতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। জয়া বচ্চন অমিতাভের স্ত্রী হিসেবে এবং রেখার উপস্থিতিতে নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্য কঠোর নজরদারির কৌশল হিসেবে এই শর্ত রেখেছিলেন বলে মনে করা হয়।
যশ চোপড়াও পরে স্বীকার করেন যে, অমিতাভ বচ্চন মূল কাস্ট নিয়ে একমত হলেও, দুই অভিনেত্রীকে রাজি করানোর চ্যালেঞ্জ তার ওপরেই ছিল। সব নাটকীয়তা পেরিয়ে ছবিটি আলোর মুখ দেখে। পর্দার বাইরে এই কাস্টিং বিতর্ক ও গুঞ্জন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করলেও, মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে খুব বেশি সাফল্য পায়নি। তবে অমিতাভ, জয়া ও রেখার উপস্থিতি ‘সিলসিলা’কে চিরকালীনভাবে হিন্দি সিনেমার একটি আলোচিত অধ্যায় বানিয়ে রেখেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন