প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোটের প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও স্পষ্ট সাড়া না মেলায়, অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এখন বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতীর সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন।
তবে, মায়াবতী এবং ওয়েইসির মধ্যে জোট চূড়ান্ত হয়েছে এমন কোনো ঘোষণা এখনও আসেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মায়াবতী জানিয়ে ছিলেন যে, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিএসপি একাই লড়বে।
অন্যদিকে, ওয়েইসি গত কয়েক মাস ধরে বিজেপিকে ঠেকাতে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জোটের আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। ওয়েইসির বক্তব্যে অখিলেশের সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে সমঝোতার আগ্রহ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, তার দল উত্তরপ্রদেশে আবার বিজেপি সরকার দেখতে চায় না। তিনি জোট নিয়ে আলোচনা করতে এখনই উদ্যোগী হওয়ার কথা বলেছেন, কারণ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে আলোচনা করার কোনো অর্থ নেই। একই সঙ্গে, তিনি সমাজবাদী পার্টির উদ্দেশে বলেছেন, যদি এআইএমআইএম ভোটে লড়লে তাদের ক্ষতি হয় বলে মনে করা হয়, তাহলে সেই ক্ষতি এড়াতে একসঙ্গে লড়াই করা উচিত।
কিন্তু সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে এখনও সেই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যেই বিএসপির দিকে ওয়েইসির নজর নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত জুলাই মাসেও ওয়েইসি অখিলেশ যাদব এবং মায়াবতী উভয়ের কাছেই জোটের প্রস্তাব রেখেছিলেন।
উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে দলিত ও মুসলিম ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে, বিএসপি এবং এআইএমআইএম যদি কোনোভাবে সমঝোতায় পৌঁছায়, তাহলে নির্বাচনি ক্ষেত্রে তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়া স্বাভাবিক।
এআইএমআইএম ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে সাংগঠনিক প্রস্তুতি বাড়িয়েছে। জুনে দলটি প্রায় দুইশ আসনে লড়াইয়ের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল এবং একই সঙ্গে জোটের দরজাও খোলা রাখার কথা জানিয়েছিল।
অন্যদিকে, বিএসপি এখন কঠিন রাজনৈতিক পুনর্গঠনের পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি মায়াবতী তার ভাইয়ের ছেলে আকাশ আনন্দকে দলের সব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত বিএসপির সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে, ওয়েইসি যদি মায়াবতীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেন, তাহলে উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসের সমীকরণের বাইরে আরেকটি রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি হতে পারে।
তবে, সেই সমীকরণ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে আসন সমঝোতা, ভোটের স্থানান্তর এবং স্থানীয় সংগঠনের শক্তির ওপর।
এদিকে, বিরোধী ভোটের বিভাজন নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে আসছে। আবার বিজেপির নেতারাও ওয়েইসির সম্ভাব্য জোটকে রাজনৈতিক আক্রমণের বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন।
ফলে, ওয়েইসি এবং মায়াবতীর সম্ভাব্য সমঝোতা শুধুমাত্র দুই দলের ভবিষ্যৎ নিয়েই নয়, বরং উত্তরপ্রদেশের সামগ্রিক নির্বাচনি সমীকরণ নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন