প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট আনাক ক্রাকাতোয়ার অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ছড়িয়ে পড়া আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখার পরিকল্পনা ছিল। পরবর্তীতে তা সকাল ৯টা ৩০ মিনিট এবং সর্বশেষ দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় ২২ হাজারের বেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ২০৯টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরটি আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যখন আগ্নেয়গিরির ছাই বিমানবন্দরের আকাশসীমায় শনাক্ত হয়, তখন ফ্লাইট চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, গুয়াংজু, হংকং ও দোহা থেকে জাকার্তাগামী এবং এসব গন্তব্য থেকে জাকার্তাগামী বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স (এসআইএ) রয়েছে। সংস্থাটি রবিবার সিঙ্গাপুর ও জাকার্তার মধ্যে চলাচলকারী ১৯টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল থাকায় সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে তাদের আরও কিছু ফ্লাইটও প্রভাবিত হতে পারে। যাত্রীদের সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য ফ্লাইটের স্ট্যাটাস পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার রাত থেকে আনাক ক্রাকাতোয়ায় অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। রবিবার ভোরে বিমানবন্দর এলাকায় আগ্নেয়গিরির ছাই শনাক্ত করা হয়।
দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির জাভার দিকে ৬ হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত ছাই শনাক্ত হয়েছে। সুমাত্রার দিক এবং জাভার বানতেন প্রদেশের কিছু এলাকায় ছাইয়ের প্লুম ১৫ হাজার মিটার পর্যন্ত উঠেছে।
আনাক ক্রাকাতোয়া জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি অবস্থিত। ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবির মুখপাত্র বার্তন পানজাইতান জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি সতর্কতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "ছাই পড়লে মাস্ক ও চোখের সুরক্ষা ব্যবহার করতে হবে, বাইরে চলাচল কমাতে হবে, পানির উৎস ঢেকে রাখতে হবে এবং গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকতে হবে।" কারণ আগ্নেয়গিরির ছাই দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দিতে পারে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কমপাস জানিয়েছে, শনিবার ছাইয়ের কারণে কয়েকটি স্কুল তাদের কার্যক্রম বাতিল করেছে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে জ্বালাপোড়ার খবর পাওয়া গেছে। অগ্ন্যুৎপাতের কারণে জেলেরা মাছ ধরতে যাওয়াও বাতিল করেছেন।
তবে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটির কারণে তাৎক্ষণিক সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।
২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতোয়ার অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্ট সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রায় শত শত মানুষ নিহত ও আহত হন।
‘আনাক ক্রাকাতোয়া’ শব্দের অর্থ ‘ক্রাকাতোয়ার সন্তান’। প্রায় এক শতাব্দী আগে পুরোনো ক্রাকাতোয়া বা ক্রাকাটোয়ার অবস্থানে এটি সমুদ্র থেকে জেগে ওঠে। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে ক্রাকাতোয়া ধ্বংস হয়ে যায়। ওই ঘটনায় সৃষ্ট ধারাবাহিক সুনামিতে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।
সূত্র:
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন