প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মোবাইল ফোনে প্রেমিকার সঙ্গে কথোপকথনের সময় দ্বন্দ্বের কারণে সিলেট শাহ্জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রিতে অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বাঁধন রাতুল (১৯) বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের নইমুদ্দিন পল্টুর ছেলে এবং সিলেট শাহ্জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি ২য় বর্ষের ১ম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন।
মঙ্গলবার বাদ আসর সিলেট শাহ্জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পর তার বন্ধুরা লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরে যায় দর্শনার ঈশ্বরচন্দ্রপুরে। এই ছাত্রের মৃত্যুতে দর্শনা পৌর শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শাহরিয়ার বাঁধন রাতুলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি অংকুর কেজি স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি লাভ করেন। বৃত্তি পেয়ে কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসিতে গোল্ডেন এ পাস করেন এবং দর্শনা সরকারি কলেজ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। শিক্ষাবৃত্তিতে সিলেট শাহ্জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রিতে ভর্তি হন। তিনি দর্শনা পৌর এলাকার শ্যামপুর গ্রামের এক ছাত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছর প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।
গত ৪ তারিখ রোববার আনুমানিক রাত ১০ টার দিকে শাহরিয়া বাঁধন রাতুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার প্রেমিকার কথোপকথনের এক পর্যায়ে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে রাতুল ঘাস মারা বিষ পান করেন। কিছুক্ষণ পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বন্ধুরা দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত ডাক্তার তার পেট থেকে বিষ উত্তোলনের প্রক্রিয়া শেষে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। দুদিন পর তার কিডনির সমস্যায় ডায়ালাইসিস করা হয়। একপর্যায়ে তাকে আইসিউতে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ ধরনের ঘটনায় মৃত্যু তার বন্ধুরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। পরিবার পক্ষ থেকে ওই মেয়ের নামে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত না করার জন্য আবেদন করা হয়।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন অধীনস্থ জালালাবাদ থানার ওসি মোহাম্মদ শামসুল হাবিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শাহরিয়ার বাঁধনের মা মোছা. শাহিনা আক্তার তার ছেলের মৃত্যুতে কোনো অভিযোগ করেননি এবং তার ছেলেকে পোস্টমর্টেম না করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তার মায়ের আবেদন মঞ্জুর করে ময়নাতদন্ত না করে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন