প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আন্তর্জাতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও কলম্বিয়া পশ্চিম জেরুজালেমে দূতাবাস খুলেছে, যা ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে বিতর্কিত। বুধবার এই দূতাবাস উদ্বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি শহরটিতে দূতাবাস স্থাপনকারী দশম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। একই সময়ে, দুই দেশের মধ্যে কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের বাতিল করা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও পুনর্বহাল করা হয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানাচ্ছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার, কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওমর বুলা এসকোবার এবং পশ্চিম জেরুজালেমের মেয়র মোশে লিয়ন। লিয়ন মন্তব্য করেছেন, "এর ফলে পশ্চিম জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরকারী দশম দেশ হলো কলম্বিয়া।"
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের মে মাসে তেল আবিবে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করে কলম্বিয়া রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে নেয়। কলম্বিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে ডানপন্থী নেতা আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হন। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার পেত্রোর আমলে বাতিল হওয়া দুই দেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বহাল করা হয়েছে।
জেরুজালেম ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। ইসরায়েল পুরো শহরটিকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। জাতিসংঘের প্রস্তাবসহ দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অবস্থানেও এ দাবির প্রতিফলন রয়েছে।
১৯৮০ সালে পূর্ব জেরুজালেমকে একীভূত করে নেয় ইসরায়েল, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ পদক্ষেপকে এখনও স্বীকৃতি দেয়নি। একই বছরের আগস্টে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৭৮ নম্বর প্রস্তাবে জেরুজালেমের চরিত্র ও মর্যাদা পরিবর্তনে ইসরায়েলের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করা হয়। শহরটিতে কূটনৈতিক মিশন থাকা দেশগুলোকে সেগুলো প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
বিতর্কিত মর্যাদার কারণে অধিকাংশ দেশ জেরুজালেমের পরিবর্তে তেল আবিব বা আশপাশের এলাকায় দূতাবাস পরিচালনা করে। শহরটির চূড়ান্ত মর্যাদা আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণের আন্তর্জাতিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবেই এ নীতি অনুসরণ করা হয়।
তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, কলম্বিয়ার নতুন দূতাবাস খোলার ফলে পশ্চিম জেরুজালেমে দূতাবাস থাকা দেশের সংখ্যা ১০-এ পৌঁছেছে। অন্যান্য দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, কসোভো, প্যারাগুয়ে, পাপুয়া নিউগিনি, ফিজি, নাউরু এবং সোমালিল্যান্ড। এর মধ্যে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে শুধুমাত্র ইসরায়েল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন