প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জার্সি বিক্রির পরিসংখ্যান তারকাদের জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের জার্সির জন্য যে তীব্র চাহিদা রয়েছে, সেটি এই বাস্তবতার প্রমাণ।
বাংলাদেশেও কি তেমন একটি উন্মাদনা তৈরি হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে জাতীয় দলের জার্সির বিক্রির পরিসংখ্যানে। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলা হামজা চৌধুরী যখন বাংলাদেশে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন, তখন দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করে।
হামজার আগমনে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এবং জাতীয় দলের জার্সির প্রতি সমর্থকদের আকর্ষণও বেড়েছে। ফুটবলারদের মধ্যে হামজা চৌধুরীর জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। গত দেড় বছরে এই সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে কিট স্পন্সর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয় দৌড়। শুরুতে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রিতে সাড়া ছিল তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু হামজা চৌধুরী বাংলাদেশে আসার পর দৃশ্যপট রাতারাতি পাল্টে যায়। জাতীয় দলের জার্সি নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং বিক্রিও বাড়তে থাকে।
দৌড়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে তারা প্রায় ৩৫ হাজার জার্সি বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি ছিল খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর সংবলিত জার্সি। সেই তালিকায় হামজা চৌধুরী সবার উপরে স্থান পেয়েছেন।
হামজার নাম-নম্বর সংবলিত ১ হাজার ৪০০ টাকা দামের অফিশিয়াল জার্সি হাজার হাজার সমর্থক কিনেছেন। এরপরের অবস্থানে রয়েছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এবং প্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোমের জার্সি।
হামজাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই উন্মাদনার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে দৌড়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবিদ আলম চৌধুরী একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “গত দেড় বছরে হামজার জার্সির চাহিদা বেশি ছিল। আমরা ৫ হাজারের মতো হামজার জার্সি বিক্রি করেছি। আসলে হামজা আসার পর থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন করে হাওয়া লেগেছে।”
হামজার জার্সির এই চাহিদার মধ্যে নতুন করে জাতীয় দলের জার্সি উন্মোচন করেছে দৌড়। নতুন জার্সির প্রতি সমর্থকদের আগ্রহও ভালো। ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি অর্ডার পড়েছে।
অর্থাৎ হামজাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড়ের জার্সিতেই সীমাবদ্ধ নয়, জাতীয় দলের জার্সির প্রতি সমর্থকদের আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে।
নভেম্বরে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কারণে সেই আগ্রহ আরো বাড়বে বলে প্রত্যাশা আবিদ আলমের। তিনি বলেন, “সামনে দেশে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আছে। আশা করছি তার আগেই উন্মাদনা শুরু হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে এক বছরে আমরা এক লাখ জার্সি বিক্রি করতে চাই।”
জাতীয় দলের নতুন জার্সি তৈরির পেছনে সমর্থকদের অংশগ্রহণও রয়েছে। আবিদ আলম জানান, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে তারা প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ডিজাইন পেয়েছিলেন। সেখান থেকে ৩৪টি উপাদান বাছাই করে নতুন জার্সি তৈরি করা হয়েছে।
হোম জার্সির মূল থিমে মাতৃভাষা বাংলা রাখা হয়েছে। বিশেষ প্রযুক্তি ও ডিজাইনে তৈরি এই জার্সির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, মাত্র ৮ মিনিটে ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।
খেলোয়াড়দের পরার জার্সির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। আর সমর্থকদের জন্য তৈরি জার্সির মূল্য ৭০০ টাকা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন