প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে মানুষ বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মঞ্জু বলেছেন, বিএনপি যদি ক্ষমতায় থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে অথবা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে জনগণ তাদের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবে। তিনি আরও বলেন, যদি কোন কারণে ক্ষমতা ছাড়তে হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ব্যর্থ হওয়ার দায় তাদের নিতে হবে।
তিনি জানান, "আমরা হয়তো আমাদের লংমার্চের একটা অন্তিম পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি। অর্থাৎ কর্মসূচি শেষ। এরপরে আমাদের কর্মসূচি আছে ঢাকার দিকে। আমরা সবাইকে নিয়ে সমাবেশ করব।" তিনি বারবার বলেন, "বিএনপিকে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন। আপনারা যদি ক্ষমতায় থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করেন কিংবা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে মানুষ আপনাদেরকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবে।"
মঞ্জু বলেন, "আর যদি কোন কারণে আপনাদেরকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়, তাহলে জুলাই সনদের যেই লক্ষ্য আমরা তৈরি করেছিলাম, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সেটা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে লিখে রাখেন, আপনারা যদি ক্ষমতা ছাড়েন, সবচেয়ে বেশি জুলুম-নিপীড়নের শিকার আবার আপনারা হবেন।"
এবি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আমি একটু স্পেশালি শেখ হাসিনাকে একটা বার্তা পৌঁছাতে চাই। শেখ হাসিনাকে বলতে চাই, ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করেন না বোন। পারলে আপনি নভেম্বরে চলে আসেন। জুলাইয়ের ক্ষত এখনো আমাদের মনে ধবধবে ক্ষয়ের মতো আছে। আপনি যত দ্রুত দেশে ফিরবেন, এই ঘা শুকানো এবং নিরাময়ের ব্যবস্থা আমাদের হবে। আপনি আসেন, আমরা প্রস্তুত আছি।"
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। সমাবেশে উপস্থিত রয়েছেন এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার; বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী; আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি জনাব মুজিবুর রহমান মঞ্জু; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বিএনপির বিরুদ্ধে জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, "বিএনপি আমাদেরকে জুলাই সনদের অক্ষরের চক্করে ফেলে টক্কর খেলতে চায়। আমরা বলছি, গণভোটে ৪ কোটি মানুষ ভোট দিয়েছে। আমি বিরোধীদলীয় নেতা সহ জাতীয় নেতাদের অনুরোধ করব, এরপরের কর্মসূচি হবে, যেই ৪ কোটি জনতা ভোট দিয়েছে, তাদের পক্ষে আমরা ৪ কোটি জনতার একটি মঞ্চ তৈরি করব ইনশাআল্লাহ। আমরা ধরিয়ে দেব, আপনারা কীভাবে আমাদের সঙ্গে এক একটা করে বেইমানি করছেন।"
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, "বিএনপি বলেছিল, এক কোটি লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। করেছে? একজন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে? সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, চার শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আর বিএনপি চাকরি দেবে কি!"
তিনি আরও বলেন, "শুনছি এখন ওই যে নাটোরে একজন বিখ্যাত এমপি আছেন, উনার চাকরি নাকি নড়বড়ে হয়ে গেছে। আরও শুনছি, এই যে এখানে আইজিপি সাহেব আছেন, উনার চাকরিও নাকি টলমলে অবস্থা।"
মজিবুর রহমান মঞ্জু আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তুলনা প্রসঙ্গে বলেন, "কেন আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করি, খুব দুঃখ থেকে করি। গুগলে সার্চ দিয়ে দেখেন, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এক বছরে প্রথম এক বছরে অন্তর্দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগের নেতা মারা গেছে ৩৮ জন। আর বিএনপি মাশাল্লাহ আট মাসে এটা ৪৫ জন পার করে দিয়েছে। তাহলে বলেন, চরিত্রের কী মিল?"
তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ বলেছিল ১০ টাকা চাল খাবে। আওয়ামী লীগ বলছিল ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। একটা কথাও কি রাখছে? বিএনপি একটা কথাও রাখছে না।"
বিএনপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, "আমরা দেখেছি এ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলার কারণে, দলীয় বিশৃঙ্খলার কারণে বিএনপির ৮ হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করতে হয়েছে। ১৫ বছর শেখ হাসিনার শাসনকালে আপনাদের এত শক্তি, এত বড় দল, একটা লোকেরও তো বহিষ্কার হতে দেখি নাই। এই দুই মাসে, এই দুই বছরে কী কারেন্ট চলে আসলো আপনাদের গায়ে? আপনাদের ৮ হাজার লোক দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে ফেলল।"
লংমার্চের পরবর্তী কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আপনারা বলছেন, এরপরে আমরা কী করব? লংমার্চ শেষ হলে কী করব? বিএনপি কী করেছিল মনে রাখবেন। বিএনপি যেই সমস্ত কর্মসূচি করেছিল, আমাদের সেগুলো মনে আছে। আমরা একটা একটা করে সে সমস্ত কর্মসূচিতেও যাওয়ার ইনশাআল্লাহ পরিকল্পনা করছি।"
মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, "আমাদের অত্যন্ত সুস্পষ্ট কথা, আমাদের ভাই এবং বোনদের রক্তের সঙ্গে কোনো ধরনের বেইমানি আমরা বরদাস্ত করব না। আমরা প্রত্যেকটা রক্তের সঙ্গে ওয়াদা করেছি। জুলাই সনদ শুধু আমরা কলম দিয়ে লিখি নাই। জুলাই সনদ শুধু আমাদের ঘাম ঝরানো সংগ্রামের অস্ত্র দিয়ে লিখি নাই। জুলাই সনদ বাংলার প্রতিটি মানুষের রক্তের অক্ষরে লেখা সনদ। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আবার রক্ত প্রয়োজন হলে রাজপথে রক্ত দিয়ে জুলাই সনদ আমরা আদায় করব ইনশাআল্লাহ। লড়াই চলছে, লড়াই চলবে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার; বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন