প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করতে প্রধানমন্ত্রী আজ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে আকস্মিকভাবে যান।
দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ (অপারেশন থিয়েটার) বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় বেঁধে দেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান। সেখানে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বছরের এ সময়, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।"
তিনি আরও বলেন, "ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাঁদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।"
যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, "নগরীর বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন বসানো হলেও তা চুরি হয়ে যাচ্ছে, একইভাবে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে।" এসব অপকর্ম প্রতিরোধে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, "একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে বহুতল ভবন গড়ে ওঠায় শহরে গরমের অনুভূতি বেড়েছে। গাছ যত বাড়বে, আমরা তত বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব। তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে। আমরা সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।"
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন- এই তিনটি ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে নিজেদের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সহযোগিতা চান। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন