প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১০ জুলাই, ২০২৬ : সম্প্রতি ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে একটি গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য একটি ‘নতুন ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা’ তৈরি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গণমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে যুদ্ধের আশঙ্কা সীমান্তে আরও বেড়ে গেছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্পের পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমান ব্যবহার নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি'র বরাত দিয়ে জানা যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন উল্লেখ করেছে, ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করে আসছে। তবে, ইসরাইলের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যটি নতুন এবং এতে একটি নির্দিষ্ট উপায়ে হত্যাচক্রান্তের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি এই বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে তথ্যটি জানিয়েছে।
‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ও একই ধরনের তথ্য তুলে ধরেছে। পত্রিকাটি জানায়, ইসরাইলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যে ট্রাম্পকে হত্যার জন্য একটি ‘নতুন পরিকল্পনার’ কথা বলার তথ্য রয়েছে।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। এরপর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তেহরান অঙ্গীকার করে আসছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে এএফপি হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে চাইলে, একজন কর্মকর্তা ট্রাম্পের বুধবারের বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেন। ন্যাটো সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে অর্থাৎ আমাকে হত্যা করতে চায়। আমি তাদের তালিকায় আছি। আজ সকালে দেখলাম, তাদের প্রায় সব তালিকাতেই আমার নাম রয়েছে।’
ট্রাম্প তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় নিজের পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে তুরস্ক ত্যাগ করেন। কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন বিমানটি আগে থেকেই যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে পাঠানো হয়। পরে, ব্রিটেনে গিয়ে তিনি ওই নতুন বিমানে উঠে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হন।
ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তন নিয়ে নানা মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর পর অনেকেই মনে করছেন, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কারণে নতুন বিমানটি তখনও পুরোপুরি কার্যকর ছিল না। উল্লেখ্য, ইরানের সীমানার কাছে তুরস্ক অবস্থিত।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধের ভিত্তিতে নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
তবে, এক সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে গেলেও, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অতীতেও ইরানের পক্ষ থেকে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন