প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাটোরের গুরুদাসপুরে সরকারি নির্দেশনা ছাড়া একটি বিদ্যালয়ের একতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন এবং একটি আধাপাকা ভবন ভেঙে বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উঠেছে। এই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের ধানুড়া বালিকা বিদ্যালয়ে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গুরুদাসপুর অফিসের সূত্রে জানা গেছে, জাপানের সাহায্য সংস্থা (জাইকা) অর্থায়নে ২২ লাখ টাকায় নির্মিত একতলা ভবনটি ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
কিন্তু মাত্র তিন বছর যেতে না যেতেই প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর ভবনটি ভেঙে রড ও ইট বিক্রি করে সমূদয় আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। নতুন ভবনের পাশাপাশি আরেকটি আধাপাকা ভবনও ভেঙে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি এবং উপজেলা প্রশাসনও অবগত নয়।
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, “শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (যেমন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) নির্দেশনার আলোকে গঠিত তদন্ত বা কারিগরি কমিটির মাধ্যমে প্রথমে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বা ব্যবহার অনুপযোগী/পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হয়।
বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন: প্রকৌশলী বা বিশেষজ্ঞ দ্বারা স্ট্রাকচারাল অ্যাসেসমেন্ট (Structural Assessment) বা পরীক্ষা সম্পন্ন করে ভবনটি ভাঙার পক্ষে মতামত নিতে হয়।
অনুমোদন ও নিলাম: হঠাৎ করে বা নিজস্ব সিদ্ধান্তে কোনো স্কুল ভবন ভাঙা বা বিক্রি করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। ভবন ভাঙার আগে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশে নিলাম বা বিধিমালা মেনে অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এই ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি কোনো প্রক্রিয়াই অনুসরণ করেননি।
রোববার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে জাপানের সাহায্য সংস্থা (জাইকা) একতলা ভবনটির অস্তিত্ব ছিল, সেখানে এখন কিছুই নেই। ভবনের বীমের খনন করা হয়েছে। পুরাতন আধাপাকা ভবনটিও নেই। এগুলো ভাঙচুরের পর ইট-রড কিংবা কোনো খোয়ার অস্তিত্ব নেই। সুনিপুণভাবে সকল আলামত নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। বোঝার উপায় নেই, সেখানে একটি পাকা ও একটি আধাপাকা ভবন ছিল। অন্য ভবনে পাঠদান চলছে যথারীতি।
স্থানীয়রা জানায়, গেল প্রায় দুই মাস ধরে মিস্ত্রিরা নতুন ও পুরাতন ভবন দুটি ভেঙেছেন। প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতি সরকারি দলের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার কারণে কেউ প্রতিবাদও করেননি। উপরন্তু, ভবন দুটি ইট-রডসহ অন্যান্য উপকরণ প্রধান শিক্ষক বিক্রি করেছেন।
প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর ভবন ভেঙে বিক্রি করার অভিযোগটি স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সহায়তায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৪তলা ভিত বিশিষ্ট ১তলা একাডেমিক ভবনের অনুমোদন হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট তা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন তিনি।
নতুন এই ভবনটির অনুমোদন পেতে আগের একতলা বিশিষ্ট ভবনসহ পুরাতন ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। জায়গা সংকটের কারণে এটি করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। সময় স্বল্পতার কারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে পারেননি। তবে মাইকিং করে একজন দরদাতার কাছে প্রায় ১ লাখ টাকায় নতুন ও পুরাতন ভবন দুটি বিক্রি হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক। এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির রেজুলেশনের কথা দাবি করা হলেও তা দেখাতে পারেননি প্রধান শিক্ষক।
উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া বলেন, নারী শিক্ষা প্রসারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা পরিষদের সুপারিশে জাপানি সংস্থা (জাইকা) অর্থায়নে ২২ লাখ টাকায় ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল। হঠাৎ করেই সম্প্রতি জানতে পারেন ওই ভবনটি ভেঙে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়নি। বিষয়টি ইউনওকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করেই প্রধান শিক্ষক নতুন একতলা ভবনটি ভেঙে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাঁর অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি। প্রধান শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব করে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এডহক) বর্তমান সভাপতি রনি আহম্মেদ মুঠোফোনে বলেন, “দেড়-দুই মাস ধরে দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ভবন ভাঙা ও বিক্রির বিষয়টি জানা নেই তাঁর। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশের বিষয়টিও অজ্ঞাত রয়েছে। এডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার কারণে হিসাব চাইতেও পারছেন না। দায়দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের বলে জানান তিনি।
সাবেক সভাপতি মোতালেব হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হবে- এই কারণে জমির মাপজোক বিষয়ে মিটিং হয়েছিল। তবে ভবন ভাঙা এবং নীতিমালা প্রণয়ন, কত টাকায় তা বিক্রি হয়েছে, সে টাকা কোথায় কিভাবে ব্যয় হয়েছে, প্রধান শিক্ষক বলতে পারবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন