প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। তারা বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। তাদের এই ধরনের অরাজকতা, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস করতে দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘একদিকে রাজনৈতিকভাবে আমরা মোকাবিলা করব। অন্যদিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলার আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা সজাগ ও সতর্ক থাকবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আজকের সভাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কোথায় চুরি, কোথায় রাহাজানি, কোথায় ডাকাতি, কোথায় ছিনতাই, কোথায় অবৈধ অস্ত্র, কোথায় মাদক—এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রশাসন ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আমরা বিশদ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী দিনে এই জেলাকে সুন্দরভাবে সমন্বিত রাখতে হবে।’
চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, পাহাড় কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে কিছু কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হচ্ছে। জনস্বার্থে, জনগণের প্রয়োজনে উল্লেখযোগ্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নির্মূল, পাহাড় কাটা সংক্রান্ত, বালু উত্তোলনসহ বিশেষ কিছু কাজ রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, এসব কারণে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। সেই বিষয়েও আমরা বিশদ আলোচনা করে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।’
চট্টগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে এ্যানি বলেন, ‘সব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি সুন্দর চট্টগ্রাম নগরী এবং চট্টগ্রাম জেলা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে। এই জেলা ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক অঞ্চল এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সিটি।’
আগামী দিনে চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রামকে গুরুত্ব দিয়ে যেসব উন্নয়ন কাজ সমন্বয় করা প্রয়োজন, সেই দিকে বিশেষ নজর দেব—এটি আমাদের প্রত্যাশা।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সব পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করে দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিশেষ করে এই চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের স্বার্থে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ইনশাআল্লাহ, এই এলাকার মানুষ সেখান থেকে ফলাফল পাবেন।’
এর আগে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্ল্যাহ, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীসহ সিভিল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন