প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা প্রদান করেনি। বুধবার একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একটি পৃথক বিবৃতিতে আব্বাসের নাম উল্লেখ না করে জানায়, ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর সদস্য এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হবে না।
বার্তা সংস্থা এএফপি ওয়াশিংটন থেকে এ খবর প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিপরীতে সংস্কার করতে ব্যর্থ হওয়া এবং শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে চলমান কর্মকাণ্ডের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রটি এএফপিকে নিশ্চিত করেছে যে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট আব্বাসও এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন।
গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনও একই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। এর ফলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নিয়মিত অংশগ্রহণকারী ফিলিস্তিনি নেতা ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের সম্মেলনে ভাষণ দিতে বাধ্য হন।
বুধবারের বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পিএলও এবং পিএ ‘আবারও তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।’
দপ্তরটি আরও জানায়, এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া ও সমর্থন করা, যা তাদের আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে ক্ষুণ্ন ও বিরোধিতা করে।
ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছে যে, পিএলও এবং পিএ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তারা একতরফা স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, সন্ত্রাসীদের ভাতা দেওয়া এবং প্রকাশ্য বিবৃতি ও স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসীদের প্রশংসা অব্যাহত রেখেছে।
এই পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। গত বছর এসব দেশ জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।
ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানবিষয়ক সম্মেলনের পর জাতিসংঘের মোট ১৪২টি সদস্যরাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইসরাইল ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা আরও বেড়েছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা বা বসতিস্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ১ হাজার ১০৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিক উভয়েই রয়েছেন। ওই দিন হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলায় ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।
এরপর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী গাজায় লাগাতার হামলা চালায়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এসব হামলায় ৭৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। মন্ত্রণালয়টি হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন, তবে জাতিসংঘের কাছে এর দেওয়া পরিসংখ্যান বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পশ্চিম তীরে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে বেশিরভাগ সময় নীরব রয়েছে। ওয়াশিংটন শুধু জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের যেকোনো ধরণের সংযুক্তির বিরোধিতা করে মার্কিন সরকার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন