প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুন্সীগঞ্জের ইছামতী নদীর ওপর কুন্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। নতুন দুই লেনের সেতুটি ৬৮ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে, যা পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতুর পরিবর্তে স্থাপন করা হচ্ছে।
রবিবার বিকেল তিনটায় মুন্সীগঞ্জ (ছনবাড়ি)-কুন্ডেরবাজার-শ্রীনগর সড়কের কুন্ডেরবাজার এলাকায় সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) বাস্তবায়নাধীন ‘জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি সেতু এবং আরসিসি সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্প (ঢাকা জোন)’ এর আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে নির্মিতব্য স্টিল কম্পোজিট কাঠামোর সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ১৫১ দশমিক ৯০ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ৩০ মিটার। এর সঙ্গে ৬০০ মিটার সংযোগ সড়কও নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সেতুটি নির্মিত হলে মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী ও সিরাজদীখান উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে। পুরোনো বেইলি সেতুটির সীমিত ভারবহন ক্ষমতা এবং জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচলে যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, নতুন সেতু চালু হলে তা দূর হবে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে।
মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় আলু, ধান, গম, সরিষা ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উৎপাদিত হয়। এসব কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের ক্ষেত্রে কুন্ডেরবাজার-শ্রীনগর সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সেতু নির্মিত হলে কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন আরো সহজ হবে। এতে স্থানীয় কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় পুরোনো সেতু প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি সংযোগ সড়ক উন্নয়ন ও নদীতীর সংরক্ষণের কাজও করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, এসব কাজ শেষ হলে এলাকার সড়ক যোগাযোগের সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগ আরো কার্যকর হবে। ফলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের পাশাপাশি জনদুর্ভোগও কমবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন