প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত-ফ্রান্স সর্ম্পকের নতুন মোড়, মন্দির উদ্বোধনে আবেগে আপ্লুত মোদি
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ভারতীয় সংস্কৃতির একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন ফ্রান্সে সম্পন্ন হয়েছে।
ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, এই মন্দিরের উদ্বোধন ভারত ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘নতুন মাইলস্টোন’। মোদি উল্লেখ করেন, এটি ভারত ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্বোধনী ভাষণে মোদি বলেন, ‘প্যারিসের এই বিশাল মন্দির উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও সংহতির প্রতীক হিসেবে যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্ব এখন কেবল কূটনীতি বা কৌশলগত সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।’
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের নিকটবর্তী বুসি-সাঁ-জর্জ ও সেন-এট-মার্ন এলাকায় এই বিশাল মন্দির নির্মিত হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ভারতীয় স্থাপত্যরীতিতে তৈরি, তবে এর নির্মাণে ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ প্রচেষ্টা রয়েছে। মন্দিরের জন্য ব্যবহৃত পাথরের বড় অংশ ভারতে আনা হয়েছিল, যেখানে শিল্পীরা পাথরে সূক্ষ্ম কারুকাজ করেন।
পরে সেই পাথর ফ্রান্সে নিয়ে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মন্দিরের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এই মেলবন্ধনকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এটি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া, বিল্ট ইন ফ্রান্স’-এর একটি সুন্দর উদাহরণ। অর্থাৎ, ভারতের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ফরাসি প্রযুক্তি ও নির্মাণ দক্ষতার মেলবন্ধন ঘটেছে এই মন্দিরে।
মন্দিরটির গুরুত্ব শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ নয় বলেই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে এমন একটি মন্দির ভারতীয় সংস্কৃতি, দর্শন ও জীবনধারার সঙ্গে স্থানীয় মানুষের পরিচয় আরও বাড়াবে।’
এছাড়া, দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগও আরো গভীর হবে।
ভারতীয় দর্শনের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’— এই ভাবনাকে সামনে রেখে মন্দিরটি মানুষের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা ছড়াবে বলেও জানান মোদি। ফ্রান্সে ভারতীয় সংস্কৃতির একটি স্থায়ী নিদর্শন তৈরি হওয়াকে তাই শুধুমাত্র প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য নয়, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর আশা, ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের আদলে নির্মিত এই মন্দির প্রবাসী হিন্দুদের কাছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন