প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বয়স ৫৭ বছর। নাম সুমন চন্দ্র। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বরিশাল নগরীর অলিগলিতে ঘুরে ঘুরে শিশুদের পোশাক বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি। হাতে ঝুলানো বাহারি পোশাক নিয়ে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলাই তার নিত্যদিনের সংগ্রাম।
সুমন চন্দ্রের সংসারে রয়েছেন স্ত্রী ও দুই ছেলে। বড় ছেলে চানাচুর বিক্রি করে সংসারে সহযোগিতা করেন এবং ছোট ছেলে একটি স্থানীয় স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। সীমিত আয় হলেও সৎ পথে উপার্জিত অর্থে পরিবার নিয়ে কোনো রকমে দিন পার করছিলেন তিনি।
তবে সম্প্রতি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে আগের মতো নগরজুড়ে ঘুরে ঘুরে পোশাক বিক্রি করতে পারছেন না সুমন। ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় তার এই ক্ষুদ্র ব্যবসা। এতে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে পুরো পরিবার।
দীর্ঘদিন ধরে সৎভাবে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া এই হকার ব্যবসায়ীর অসহায়ত্বের বিষয়টি নজরে আসে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ এবং ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’-এর আহ্বায়ক সাজ্জাদ পারভেজের।
সুমনের স্বাবলম্বী হওয়ার অদম্য ইচ্ছা দেখে তার পাশে এসে দাঁড়ান এই মানবিক ব্যক্তিত্ব। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সুমন চন্দ্রকে সঙ্গে নিয়ে বরিশাল নগরীর সিটি মার্কেটের পাইকারি পোশাকের দোকানে যান তিনি। সুমনের বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যবসা আবার সচল করতে নিজের খরচে প্রয়োজনীয় নতুন নতুন শিশুদের পোশাক কিনে দেন সাজ্জাদ পারভেজ।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত সুমন চন্দ্র বলেন, “আমি প্রায় ২৫ বছর ধরে পায়ে হেঁটে ঘুরে ঘুরে বাচ্ছাদের পোশাক বিক্রি করে সংসার চালাই। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় কিছুদিন ধরে ব্যবসা বন্ধ ছিল। এখন আবার নতুন পোশাক পেয়েছি, আবার নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে পারব। আমার মতো একজন সাধারণ মানুষের পাশে যেভাবে সাজ্জাদ পারভেজ স্যার দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কারও কাছে হাত পেতে বাঁচতে চাই না; নিজের পরিশ্রমে সৎভাবে সংসার চালাতে চাই। এই সহায়তায় আমার আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হলো। যতদিন শরীরে শক্তি আছে, পরিশ্রম করেই পরিবারের দায়িত্ব পালন করে যেতে চাই।”
সুমনের হাতে নতুন পোশাক তুলে দিয়ে সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, “অসহায় ও পরিশ্রমী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সমাজের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। সুমন চন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার এই সুন্দর প্রয়াস যাতে বন্ধ না হয়ে যায় এবং তিনি যেন পুনরায় স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেই চিন্তা থেকেই এই সামান্য উদ্যোগ।”
সুমন চন্দ্রের মতো পরিশ্রমী ও সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’-এর এই মানবিক সহযোগিতা বরিশাল জুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন