প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণের জন্য রয়েছে বিভিন্ন আকর্ষণ, যেমন নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার ও স্ট্যাচু অব লিবার্টি এবং সান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট ব্রিজ। এর বাইরে একটি বিশেষ পর্যটনস্থল রয়েছে, যেখানে বিশাল নাগরদোলা, অদ্ভুত স্থাপনা এবং বিচিত্র সংগ্রহ রয়েছে। তবে, এখানে নাগরদোলাটি দেখা গেলেও তাতে চড়ার সুযোগ নেই।
এই স্থানটি উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ‘হাউস অন দ্য রক’ নামে পরিচিত। যারা সাধারণ পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে কিছু ব্যতিক্রমী দেখতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। কনটেন্ট নির্মাতা খাইলের একটি ভিডিওতে এই কমপ্লেক্সের বিচিত্র আয়োজন তুলে ধরা হয়েছে। তার মতে, এর মতো অভিজ্ঞতা অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন।
কেন এত অদ্ভুত ‘হাউস অন দ্য রক’? খাইল নিজের পোস্টে ‘হাউস অন দ্য রক’-কে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম উদ্ভট পর্যটনস্থল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মন্তব্যের পেছনে রয়েছে জায়গাটির প্রতি মুগ্ধতা। তার দৃষ্টিতে, এখানে কিছু প্রদর্শনী অসাধারণ সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়, আবার কিছু দেখে মনে হয় যেন অদ্ভুত কোনো স্বপ্নের জগতে চলে এসেছেন। অ্যালেক্স জর্ডান ১৯৬০ সালে এই বাড়িটি নির্মাণ করেন।
কমপ্লেক্সটির অন্যতম আলোচিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ইনডোর নাগরদোলা। এতে ২৬৯টি পশুর অবয়ব, ২০ হাজার আলো এবং ১৮২টি ঝাড়বাতি রয়েছে। বিশাল এই আয়োজন দেখলে যে কারো চোখ আটকে যেতে পারে। তবে, নাগরদোলাটি অন্যান্য নাগরদোলার মতো নয়। এখানে চড়ার অনুমতি নেই কোনো পর্যটকের। দূর থেকে এর বিশালত্ব ও সাজসজ্জা দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
এখানকার আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থাপনা ‘ইনফিনিটি রুম’। এই অংশটি দীর্ঘ, অনুভূমিক শিখরের মতো দেখতে, যা উইসকনসিনের উপত্যকার ওপর দিয়ে প্রায় ২০০ ফুট প্রসারিত হয়েছে। এর নকশা ও অবস্থান দর্শকদের জন্য ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
এক ঘরে বিশাল নাগরদোলা, অন্য ঘরে স্বয়ংক্রিয় বাদ্যযন্ত্রের দল। যন্ত্রগুলি নিজে থেকেই বাজতে থাকে। কোথাও আবার মাথার ওপর ঝুলতে দেখা যায় বিশাল এক সামুদ্রিক প্রাণীর অবয়ব। একের পর এক ঘর ঘুরে দেখলে বোঝা যায়, প্রতিটি অংশের সাজসজ্জা ও প্রদর্শনীর ধরন আলাদা। ফলে পুরো কমপ্লেক্স ঘুরে দেখার সময় একঘেয়ে হওয়ার সুযোগ কম।
এখানে ক্ষুদ্রাকৃতির পুতুলবাড়ির বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। এসব বাড়ির নকশায় ঔপনিবেশিক আমল থেকে ভিক্টোরীয় যুগের স্থাপত্যশৈলীর নমুনা দেখা যায়। এ ছাড়া এখানে ২০০টিরও বেশি জাহাজের মডেল, আগ্নেয়াস্ত্র, গয়না এবং নানা ধরনের ব্যতিক্রমী সামগ্রীও প্রদর্শিত হয়।
খাইল জায়গাটিকে ‘ভৌতিক’ ও ‘সুন্দর’ দুইভাবেই বর্ণনা করেছেন। তার মতে, অদ্ভুত স্থাপনা ও অপ্রচলিত সংগ্রহ দেখতে যারা পছন্দ করেন, তাদের কাছে ‘হাউস অন দ্য রক’ ভালো লাগবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে অন্য রকম কিছু দেখতে চাইলে জায়গাটি ভ্রমণের পরিকল্পনায় রাখতে পারেন।
কখন যাবেন, কতক্ষণ সময় রাখবেন?
‘হাউস অন দ্য রক’ প্রতি মঙ্গলবার ও বুধবার বন্ধ থাকে। অন্যান্য দিন কমপ্লেক্সটি বিকেল ৫টায় বন্ধ হয়ে যায়। ‘আলটিমেট এক্সপেরিয়েন্স’ ট্যুরের শেষ বুকিংয়ের সময় দুপুর ২টা। এই ট্যুরে ঘুরে দেখতে প্রায় তিন ঘণ্টা লাগে।
কমপ্লেক্সের কয়েকটি অংশ দুপুর ২টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই সব প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পরিকল্পনা থাকলে দিনের শুরুতেই পৌঁছানো ভালো। এতে বিভিন্ন সংগ্রহ ও স্থাপনা দেখার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন