প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষক মনিরুজ্জামান এলাহি, যিনি দশ টাকার মাস্টার নামে পরিচিত, প্রজন্মের প্রথম অক্ষর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তালপাতা ও দোয়াত-কালির মাধ্যমে শিক্ষার পথ শুরু হয়েছিল তার কাছে। বর্তমানে তিনি জীবনের শেষপ্রান্তে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের হস্তিশুণ্ড গ্রামে তার বাড়িতে খাদ্য সহায়তা নিয়ে হাজির হন উপজেলার মানবিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান।
স্থানীয় প্রবীণদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, মনিরুজ্জামান এলাহি তালপাতায় অক্ষর লেখা ও দোয়াত-কালিতে শিশুদের পড়ানোর মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবনের সূচনা করেছিলেন। তিনি মাত্র ১০ টাকা পারিশ্রমিক নিতেন, যার ফলে স্থানীয়রা তাকে ‘দশ টাকার মাস্টার’ নামে ডাকেন।
এখন বয়সের ভারে নুজ্য হয়ে পড়েছেন এই প্রবীণ শিক্ষক। তার দিন কাটছে আর্থিক সংকটের মধ্যে। তার দুরবস্থার খবর পেয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা এলাহির সঙ্গে কথা বলেন এবং তার শারীরিক ও পারিবারিক অবস্থার খোঁজখোঁজ নেন। পরে তিনি তাকে তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবীণ শিক্ষককে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন ইউএনও মো. আলী সুজা। তিনি সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, “এ শিক্ষককে একটি ঘর করে দেয়ার জন্য আমাদের সকলকে এগিয়ে আসা উচিত।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নব্বইয়ের দশকে মনিরুজ্জামান এলাহি দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের শিক্ষার প্রথম পাঠ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তালপাতায় লেখা ও দোয়াতে কালি তৈরি করে শিশুদের হাতে ধরে অক্ষর শেখানোর মাধ্যমে তিনি তাদের শিক্ষার সূচনা করেন।
এলাহির কাছে হাতেখড়ি নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত। তবে, একটি প্রজন্মের শিক্ষার সূচনালগ্নে ভূমিকা রাখা সেই শিক্ষক এখন চরম আর্থিক দৈন্যদশায় পরেছেন।
স্থানীয় শিক্ষক নুরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “মনিরুজ্জামান এলাহির কাছে হাতেখড়ি নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তিনি নিঃস্বার্থভাবে একটি প্রজন্মের জন্য কাজ করেছেন।” তিনি আরও জানান, এলাহি বিয়ে করেননি এবং শিক্ষাদানকে জীবনের বড় অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু এখন তার নেই স্থায়ী কোনো আয়ের উৎস এবং নিয়মিত সরকারি সহায়তা।
ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, “আমি বিষয়টি নজরে আসার পরই দশ টাকার মাস্টার এলাহির খোঁজ নিয়েছি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তার সাথে সাক্ষাত করতে বাড়িতে গিয়েছিলাম। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে। আমি সমাজের সামর্থ্যবান সকলকে আহবান জানাচ্ছি, যেন শিক্ষক মনিরুজ্জামান এলাহির জীবনের শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন