প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ১২ দিনের বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ শুরু করেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নগর ভবনে এ জরিপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
জানা গেছে, রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এ জরিপ আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে দৈবচয়ন ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়িতে এ জরিপ পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব, প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হবে।
ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৭২ জন মাঠকর্মী জরিপে অংশ নিচ্ছেন। তথ্য সংগ্রহের জন্য ‘কোবো টুলবক্স’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে। জরিপ শেষে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটু ইনডেক্স (BI), হাউস ইনডেক্স (HI), কনটেইনার ইনডেক্স (CI) ও পিউপা ইনডেক্স (PI) নির্ধারণ করা হবে।
জরিপের ফল অনুযায়ী, ব্রেটু ইনডেক্স (BI) ২০ বা তার বেশি হলে এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ, ১০ থেকে ১৯ হলে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০-এর নিচে হলে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
জরিপে চিহ্নিত হটস্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে, বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, "ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা জরুরি। এবারের জরিপের মাধ্যমে ডিএসসিসি এলাকার বর্তমান পরিস্থিতির একটি নির্ভুল চিত্র পাওয়া যাবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
তিনি আরও বলেন, "প্রাক্-বর্ষা জরিপে বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানিকে এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র হিসেবে পাওয়া গেছে। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের স্থান পরিষ্কার রেখে পানি জমতে না দেওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"
এর আগে ডিএসসিসির পরিচালিত বর্ষাপূর্ব জরিপে ৬৩টি ওয়ার্ডে লার্ভার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছিল ডিএসসিসি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন