প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটি অভিশপ্ত ইতিহাসের সঙ্গে চব্বিশ বছর! নকআউটে যখন প্রথম গোল হজম করে ব্রাজিল, তখন মাঠ থেকে বিদায় যেন নিশ্চিত। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করার পর দুই দশকেরও বেশি সময় চলে গেছে কিন্তু সেলেসাওরা খোলস ছেড়ে বের হতে পারেনি। হিউস্টনের শেষ বত্রিশের ম্যাচে যখন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা জাপানের বিপক্ষে গোল খেয়ে বসে, তখন গ্যালারিতে আবারও সেই চেনা শঙ্কার কালো মেঘ দেখা গেল। কোটি ভক্তের বুক দুরুদুরু; আবার কি ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে? আবার কি নকআউট থেকেই বিদায় নেবে তারা?
কিন্তু না! ডাগআউটে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ইতালিয়ান ভদ্রলোক, যিনি চুইংগাম চিবাচ্ছেন, যেন অন্য ধাতুতে গড়া। তার নাম কার্লো আনচেলত্তি! খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থেকেও যার বিশ্বাসে একটুও চিঁড়ে ধরেনি। বিরতির পর ড্রেসিংরুমে চাণক্য আনচেলত্তির একটাই মন্ত্র ছিল ‘ধৈর্য হারিও না, গোল আমরা পাবই!’ তাই গুরুর সেই বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে দ্বিতীয়ার্ধে এক অন্য ব্রাজিল খোলস ছেড়ে বের হলো। ৫৬ মিনিটে অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরো একটি বুলেট হেডারে সমতায় ফিরে এলো। আর ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে পঁচানব্বই মিনিটে গাব্রিয়েল মার্তেনেল্লির সেই জাদুকরী গোল। গ্যালারিতে তখন আনন্দের সুনামি বইতে লাগল, আর মার্তেনেল্লি নিজেও যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না কী অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি!
ম্যাচ শেষে আনচেলত্তির চোখে-মুখে সেই চেনা রিল্যাক্সড হাসি দেখা গেল। রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে বসে তিনি এমন বহু রূপকথা নতুন করে লিখেছেন, এজন্য তিনি বললেন দলের কেউই বিশ্বাস হারায়নি যে গোল আসবে না। তবে এই রোমাঞ্চকর জয়ের রাতেও ভক্তদের মনে একটি খটকা থেকে গেছে। ডাগআউটে পুরো সময় বসে থাকা নেইমারকে কেন মাঠে নামানো হলো না? আনচেলত্তি নিজেই রহস্যের জট খুলেছেন। তিনি বলেছেন, ম্যাচ যদি অতিরিক্ত সময়ে গড়াত, তবে মাঠে নামতেন নেইমার। কিন্তু ক্যাসেমিরো ও মার্তেনেল্লিরা নির্ধারিত সময়েই কাজ সেরে ফেলায় কৌশল বদলানোর ঝুঁকি নেননি ডন কার্লো।
জাপানের সুশৃঙ্খল রক্ষণ ভেঙে এই কষ্টার্জিত জয়কে ক্যাসেমিরো ধৈর্যের ফল হিসেবে দেখছেন। কিন্তু রোমাঞ্চকর এই রূপকথার রাতের শেষে ব্রাজিলের কপালে চিন্তার ভাঁজ রইলো। ম্যাচ শেষে চোটের মিছিলে যোগ দিয়েছেন গোলদাতা ক্যাসেমিরো এবং লুকাস পাকেতা। শেষ ষোলোর মহাযুদ্ধের আগে এই দুই তারকার চোটের পরিস্থিতি কতটা গুরুতর, তা জানার জন্য এখন পুরো ব্রাজিলিয়ান শিবিরের চোখ চব্বিশ ঘণ্টার মেডিকেল রিপোর্টের দিকে। ইতিহাস ভেঙে ব্রাজিল তো ঘুরে দাঁড়ালো, কিন্তু চোটের এই নতুন ধাক্কা সামলে আনচেলত্তির সেনারা হেক্সার মিশনে কতদূর যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন