প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারের হালনাগাদকৃত এসডিজি অর্থায়ন কৌশলের পর্যালোচনা অনুযায়ী, এই বিশাল পরিমাণ অর্থায়ন প্রয়োজন হবে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) উক্ত কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) প্রতিবেদনের ফলাফল এবং সরকারের হালনাগাদকৃত এসডিজি অর্থায়ন কৌশল পর্যালোচনা করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই বিশ্লেষণ কাঠামো জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে অর্থায়ন নীতি, প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রবাহের কার্যকর সমন্বয়ে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য অবশিষ্ট সময় অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তিনি দাবি করেন যে, অর্থায়নের বড় ঘাটতি, সীমিত সময় এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সমন্বিত উদ্যোগ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরজনিয়াক বলেন, বৈশ্বিকভাবে উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ সংকুচিত হলেও, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতকে এসডিজি-সামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়ন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এ. এইচ. এম. জাহাঙ্গীর বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকালে একটি সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক অর্থায়ন পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি।
ইউএনডিপির উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়ারতেরœ বলেন, অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে কার্যকর অর্থায়ন নীতি এবং শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি জানান, বর্তমান বাস্তবতায় প্রচুর সম্পদ সংগ্রহের পাশাপাশি পরিকল্পনা প্রণয়নের শুরু থেকেই সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান। তিনি বাংলাদেশের পরিবর্তিত অর্থায়ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সরকারি ও বেসরকারি উভয় উৎস থেকে অর্থায়ন বাড়ানোর সম্ভাব্য কৌশল তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত ৪২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এই অর্থের বড় অংশ দেশীয় সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।
যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর অর্থায়নে পরিচালিত ইউএনডিপির ক্লাইমেট ফাইন্যান্স নেটওয়ার্ক (সিএফএন) কর্মসূচির সহায়তায় আয়োজিত কর্মশালায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যাংকিং খাতের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) প্রতিবেদন এবং এসডিজি অর্থায়ন কৌশল চূড়ান্ত করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন