প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) দিনের শুরুর লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের দাম আগের দিনের বড় ধরনের উত্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ০০০১ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ সেন্ট বা ০.০৬ শতাংশ বেড়ে ৯৫.০৪ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১৭ সেন্ট বা ০.১৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯১.৯৯ ডলারে দাঁড়িছে।
এর আগে সোমবার উভয় বেঞ্চমার্ক তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। তবে পরে দাম কিছুটা কমে আসে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করেছে— এমন কোনো তথ্য তিনি পাননি।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া সেনাদের সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।
সোমবার ডোনাল্ট ট্রাম্প সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আলোচনা শেষ হয়ে গেলেও তার আপত্তি নেই। তবে কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে।
অপরদিকে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা হওয়ার আশা করছেন বলেও জানান তিনি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তেলের বাজার মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি বা অচলাবস্থা, উভয় পক্ষের বক্তব্যের ধরন এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা কোন দিকে যাচ্ছে, সেটিই নির্ধারণ করবে তেলের দামে বিদ্যমান ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্য (রিস্ক প্রিমিয়াম) বজায় থাকবে নাকি ধীরে ধীরে কমে আসবে।
এদিকে লেবানন সোমবার হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। এটি কার্যকর হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইজি গ্রুপের বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে নতুন নতুন খবর আসতে থাকায় শান্তিচুক্তির দিকে স্পষ্ট অগ্রগতির প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের বাইরের জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চিমাংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের শোধনাগারগুলোতে মার্কিন তেলের চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দৈনিক ৫.৬ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছে গড়েছে নতুন রেকর্ড।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, ২৯ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন ব্যারেল কমতে পারে। একই সঙ্গে ডিজেল ও পেট্রোলের মজুদও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এথেন্সে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শিপিং খাতের কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার জন্য স্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
সূত্র : রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন