প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি সবসময় রাজপথে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, দলের নেতাকর্মীরা জনগণের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের ওপর যাতে কেউ আঘাত করতে না পারে এবং পরিকল্পিতভাবে কেউ যাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মীকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো থাকতে হবে।’
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আয়োজিত ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে’ সমাবেশ ও মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমান উল্লাহ আমান আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারেক রহমানের উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। সেই ভোটের অধিকার ফিরে এসেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য জানান, বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে বেছে নিয়েছে। জনগণ তারেক রহমানের ওপর আস্থা রেখেছে এবং ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার গঠনের পর সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ এবং খাল কাটা কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে আমান উল্লাহ আমান জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী দুটি ব্যাগ, এক জোড়া জুতা, ইউনিফর্ম ও মধ্যাহ্নভোজ পাবে- এ কর্মসূচিও শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেমন উপবৃত্তি চালু করেছিলেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
আমান উল্লাহ আমান উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে জনগণের কথা বলার অধিকার ও সাংবাদিকদের কথা বলার অধিকার ফিরে এসেছে। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত একদলীয় শাসন চালু ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বন্ধ করা হয়েছিল। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের লেখনীর স্বাধীনতা ও সংবাদপত্র প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন।
তিনি আরও বলেন, গণআন্দোলনে স্বৈরাচার পালিয়ে গেলে তারা আর ফিরে আসতে পারেনি এবং পারবেও না।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সেবায় মাঠে-ঘাটে, গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায়, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানায় বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মীকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো থাকতে হবে। যাতে করে কেউ গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এবং পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে।
পালিয়ে যাওয়া এবং দেশে লুকিয়ে থেকে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করার চেষ্টা করছে এমন ব্যক্তিদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘নিজেরা আইন হাতে তুলে নেবেন না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘যারা খুন করেছে, হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে, যারা আমার ভাই আবু সাঈদ, ওয়াসিম, রিয়াজকে হত্যা করেছে- সেই খুনিদের জায়গা এই বাংলাদেশে হতে পারে না।’
সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যয়, ধীরতা ও দেশের প্রতি মমতা অনুসরণ করে সবাইকে কাজ করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন