প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তুরস্কের আরারাত পর্বতের নিকটবর্তী দুরুপিনার গঠনে নুহ নবীর নৌকার ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার বিষয়ে নতুন দাবি করেছেন একদল গবেষক। তাদের বক্তব্য, সেখানে কাঠকয়লার মতো পোড়া কাঠের পাশাপাশি ভূগর্ভে প্রায় ৩০ ফুট গভীরে অক্ষত কাঠের সন্ধানও পাওয়া গেছে। তবে, এই নমুনাগুলি সত্যিই নুহ নবীর নৌকার অংশ কিনা, তা বৈজ্ঞানিকভাবে এখনও প্রমাণিত হয়নি।
‘নোয়াস আর্ক স্ক্যানস’ নামে পরিচিত গবেষক দলের সদস্যরা কয়েক সপ্তাহ ধরে দুরুপিনার গঠনে বিভিন্ন ধরনের স্ক্যান পরিচালনা করছেন। প্রায় ৫১৫ ফুট দীর্ঘ কাঠামোর ভেতরে অনুসন্ধানের জন্য তারা ড্রোনও ব্যবহার করেছেন।
দলটির প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু জোনস সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, অনুসন্ধানে তারা নুহ নবীর নৌকার পোড়া অবশিষ্টাংশের সন্ধান পেয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কাঠ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাটির প্রায় ৩০ ফুট নিচে অক্ষত কাঠের নমুনাও পাওয়া গেছে।
জোনসের ধারণা, কয়েক শতাব্দী আগে কোনো রাখাল কাঠামোটিকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করার সময় সেখানে আগুন জ্বালিয়ে থাকতে পারেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বজ্রপাত কিংবা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে কাঠ পুড়ে যেতে পারে।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোনস বিশ্বাস করেন যে, উদ্ধার হওয়া কাঠ নুহ নবীর নৌকার অংশ। তার যুক্তি হলো, নৌকাটিকে পানিরোধী করতে আলকাতরার মতো দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তাই কোনো একসময় এতে আগুন ধরে থাকতে পারে।
এখন পর্যন্ত দুরুপিনার গঠন নিয়ে গবেষক দলের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে তারা কাঠামোটিকে মানুষের তৈরি বলে দাবি করে এবং সেখানে ড্রিল করে পচে যাওয়া কাঠের সম্ভাব্য প্রমাণ পাওয়ার কথাও জানায়।
গবেষকরা আরও দাবি করেছেন যে, খননকাজের সময় একটি ড্রিল মেশিন কাঠামোর ভেতরে শক্ত কোনো বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে ভেঙে যায়। তাদের ধারণা, বস্তুটি পাথরে পরিণত হওয়া কাঠ হতে পারে।
জোনসের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের সংগৃহীত তথ্য দুরুপিনার গঠনকে প্রাকৃতিক শিলাস্তর হিসেবে বিবেচনার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রাথমিক রাডার স্ক্যানেও কাঠামোটির ভেতরে একটানা ও সমজাতীয় কঠিন শিলার বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।
তবে, গবেষকদের এসব দাবি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। দুরুপিনার গঠনকে নুহ নবীর নৌকার ধ্বংসাবশেষ হিসেবে শনাক্ত করার পক্ষে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে এখন পর্যন্ত স্বীকৃত কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সূত্র: উইয়ন নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন