প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ডা. তিমির বরণ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। এক মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। অন্য মামলায় ৩ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৩ টাকা ৭৭ পয়সার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তা ভোগদখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাগুলি বুধবার (৭ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এ দায়ের করা হয়। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর উপ-পরিচালক মো. আল আমিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের নথি অনুসারে, প্রথম মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ডা. তিমির বরণ চৌধুরীর নামে ইস্যু করা সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করার পরও তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পূরণ করে কমিশনে জমা দেননি।
দুদকের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সময় তিমির বরণ চৌধুরীর কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য ফরম ইস্যু করা হয়। গত ২৯ মার্চ দুদকের কর্মকর্তারা চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের ৬ নম্বর মোমিন রোডের বাসায় গিয়ে তার হাতে মূল সম্পদ বিবরণী ফরম তুলে দেন। তিনি নিজ সইয়ে ফরম গ্রহণ করেন।
দুদকের দাবি, সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের সময় ২৯ এপ্রিল শেষ হলেও তিনি সম্পদ বিবরণী জমা দেননি। এ ছাড়া, তিনি সময় বাড়ানোর জন্যও আবেদন করেননি। এই কারণে তার বিরুদ্ধে ২৬(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
দ্বিতীয় মামলায় ডা. তিমির বরণ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৩ টাকা ৭৭ পয়সার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আসে। পরে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে তার সম্পদের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য আয়ের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, তিমির বরণ চৌধুরীর স্থাবর সম্পদের মধ্যে রহমতগঞ্জ মৌজায় একটি ১০ তলা আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে তার বিনিয়োগের পরিমাণ ৪ কোটি ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৯ টাকা ৭৭ পয়সা। এ ভবনের নির্মাণকাজ এখনো চলমান রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে আরো ১৮ লাখ ৪৭ হাজার ৩০২ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং তার মেয়ের প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষা ব্যয়সহ ৫৩ লাখ ৩ হাজার ৪২২ টাকা পারিবারিক ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়। সব মিলিয়ে তার অর্জিত সম্পদ ও পারিবারিক ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৮৩ টাকা ৭৭ পয়সা।
অন্যদিকে অতীত সঞ্চয়, পরিচালক ভাতা, ঠিকাদারি ব্যবসা, গৃহসম্পত্তির ভাড়া, জনপ্রতিনিধি হিসেবে সম্মানী, কৃষি আয় ও ঋণসহ মোট ১ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ৭৯০ টাকা গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস হিসেবে পেয়েছে দুদক।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, মোট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ থেকে গ্রহণযোগ্য আয় বাদ দিলে ৩ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৩ টাকা ৭৭ পয়সা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে পাওয়া যায়।
দুদকের এজাহারে রহমতগঞ্জের ওই ভবনকে ঘিরে বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তিমির বরণ চৌধুরী ও তার দুই ভাই পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমির ওপর এক আত্মীয়ের অংশীদারিত্বসহ যৌথভাবে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করছেন।
দুদকের দাবি, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আত্মীয়ের মালিকানাধীন অংশের ভবন উন্নয়ন ব্যয়ের একটি অংশও তিমির বরণ চৌধুরী বিনিয়োগ করেছেন। ফলে ভবনটির মোট বিনিয়োগের ৫৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ তার বিনিয়োগের আওতায় আসে। আয়কর রিটার্নে ২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত তিনি এ খাতে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার ৫৬১ টাকা বিনিয়োগ ব্যয় দেখালেও প্রকৌশলীর পরিমাপ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকৃত বিনিয়োগ ৪ কোটি ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৯ টাকা ৭৭ পয়সা বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে। এ হিসাবের ভিত্তিতেই দুদক জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনেছে।
দুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তকালে অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা আমলে নেওয়া হবে। মামলাগুলোর তদন্তের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে কমিশন জানিয়েছে।
এ বিষয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এর উপ-পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, ডা. তিমির বরণ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে। একটি সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে এবং অপরটি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে।
দুদকের নথি অনুযায়ী, ডা. তিমির বরণ চৌধুরী ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত পটিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্ত্রীও একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ডা. তিমির বরণ চৌধুরীর ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন