প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বব্যাপী পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে জ্বালানি অপচয় ও কার্বন নির্গমন কমানোর ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। তারা অশোধিত খনিজ তেল (Crude Oil) পরিশোধনের জন্য একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা প্রচলিত ডিসটিলেশন বা পাতন প্রক্রিয়ার তুলনায় প্রায় ৯০ থেকে ৯১ শতাংশ পর্যন্ত শক্তি সাশ্রয় করবে।
নতুন প্রযুক্তির উন্নয়ন করেছেন চীনের ডালিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল ফিজিক্স (DICP)-এর গবেষক দল। তাদের এই গবেষণার প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাশনাল সাইন্স রিভিউ-তে প্রকাশিত হয়েছে।
মলিকুলার রিফাইনিং বা আণবিক ছাঁকন কী?
অপরিশোধিত তেল থেকে পেট্রোল, ডিজেল, প্লাস্টিক বা কেমিক্যাল তৈরির জন্য সাধারণত উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত ও ঘনীভূত করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। এই 'ডিসটিলেশন' প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি খরচ হয়।
চীনা বিজ্ঞানীরা তাপভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে "মলিকুলার রিফাইনিং" বা আণবিক স্তরে কার্যকর ছাঁকন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।
মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক (MOF) মেমব্রেন: বিশেষ ধরনের মেটাল-অর্গানিক ফিল্টার ব্যবহার করে অণুর আকার ও উপাদানের ভিত্তিতে উপাদানগুলো আলাদা করা হয়।
ক্যাসকেড মেমব্রেন সেপারেশন: প্রথম ধাপে ০.১ নানামিটারের পার্থক্যে বড় অণুগুলো পৃথক করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে ০.০১ নানামিটারের সূক্ষ্ম পার্থক্যে প্লাস্টিক, রজন বা ফাইবারের কাঁচামাল এবং গ্যাসোলিনের উপাদানগুলো আলাদা করে নেওয়া সম্ভব হয়।
ট্যানিক এসিডের ব্যবহার: ছাঁকন প্রক্রিয়ায় মেমব্রেনের ছিদ্রগুলো নিখুঁত রাখার জন্য ট্যানিক এসিড দিয়ে অতিসূক্ষ্ম খোদাই (micro-etching) করা হয়েছে।
প্রযুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব
পরীক্ষাগারে ১৫টি উপাদানের মিশ্রণ ব্যবহার করে পরিচালিত পরীক্ষায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ উপাদান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যদি শিল্প কারখানায় বৃহৎ পরিসরে এই প্রযুক্তি কার্যকর করা যায়, তবে তা বিশ্বজুড়ে পেট্রোকেমিক্যাল কারখানার পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে এবং ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন