প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার এক কিশোর গুলি চালানোর ফলে ১১ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ পরে হামলাকারী কিশোরকে আটক করেছে।
এ তথ্য দেশটির একজন মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।
মানিসা প্রদেশের তুরগুতলুতে স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এই এলাকা পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটন শহর ইজমিরের নিকটে অবস্থিত। প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
তুরস্কে স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনা সাধারণত বিরল। তবে গত এপ্রিলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পরপর দুই দিন দুটি হামলার ঘটনা ঘটে, যা ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
তুরস্কের তুরগুতলু থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর প্রকাশ করেছে।
বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘১১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত। হামলাকারী কিশোরকে দ্রুত শনাক্ত করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, হামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজনের বাবা-মা ও দাদাকেও আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আতঙ্কিত অভিভাবকরাও সেখানে জড়ো হন।
ডএইচএ সংবাদ সংস্থা সিসিটিভির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কালো জিনস, কালো জ্যাকেট এবং সবুজ পোশাক পরা এক তরুণ রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, তার হাতে একটি লম্বা নলের আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
আইএইচএও একই ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে তাকে দৌড়াতে দেখা যায়।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি জানিয়েছে, হামলাকারীর কাছে অস্ত্রটি ছিল একটি শটগান।
স্কুলের বাইরে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় এক নারীকে চিৎকার করতে দেখা যায়। দর্শনার্থীরা স্কুলের বেড়ার পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন।
গুরলেক জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি কিশোরটির কাছে কীভাবে পৌঁছালো, অস্ত্রটি কীভাবে সংরক্ষণ ও তদারকি করা হয়েছিল এবং ঘটনার আগে তাকে হয়রানি করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই বিদ্যালয়ে দিনের সব ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে।
তুরস্কের স্কুলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টির পাঁচ মাস পর এই হামলা ঘটল। গত এপ্রিলে পরপর দুটি স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এপ্রিল মাসে দক্ষিণাঞ্চলীয় কাহরামানমারাশ প্রদেশের একটি স্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর গুলি চালায়। এতে একজন শিক্ষক এবং ১০ ও ১১ বছর বয়সী নয় শিক্ষার্থী নিহত হয়। ঘটনাস্থলেই হামলাকারীর মৃত্যু হয়।
এর এক দিন আগে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সানলিউরফা প্রদেশে এক কিশোর তার সাবেক উচ্চ বিদ্যালয়ে গুলি চালায়। এতে ১৬ জন আহত হয়। পুলিশ তাকে ঘিরে ফেললে সে নিজের জীবন নেয়।
পরপর ওই দুই হামলার পর প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এক উপশিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন। একই সঙ্গে তার সরকার আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানায় আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রতিশ্রুতি দেন।
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার এক দিন পর এই হামলা ঘটল। শিক্ষাবর্ষটি শুরু হয়েছে ১৪ সেপ্টেম্বর। এর এক দিন আগে শিক্ষামন্ত্রী ইউসুফ তেকিন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফতচি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণ করে একটি প্রটোকলে স্বাক্ষর করেন।
তিনি জানান, প্রথমবারের মতো ৩১ হাজার স্কুলের জন্য নিরাপত্তা তদারককারী নিয়োগ করা হয়েছে।
মুস্তাফা বলেন, মন্ত্রণালয় স্কুলগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে মূল্যায়ন করেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলগুলোতে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা সেখানে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত স্কুলগুলোতে পুলিশ লিয়াজোঁ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন