প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও সাগরের জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এ বিষয়ে সংগৃহীত ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
টানা ভারী বর্ষণের কারণে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করার সময় জেলা প্রশাসক এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের সম্মুখীন হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতার ফলস্বরূপ জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর পাশাপাশি চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সকল সাপ্তাহিক এবং অন্যান্য ছুটি বাতিল করার কথা জানান ডিসি।
তিনি বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলায় এবং জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রাখতে হবে, যাতে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যায়। দুর্যোগের এই সময়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে মানুষের জীবন রক্ষা করা। মানুষের জীবন আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রাণ যেন সামান্য অসচেতনতার কারণে ঝরে না পড়ে, সেজন্য সবাইকে অনুরোধ করব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা না থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসুন।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতির তথ্য নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রতি ঘণ্টায় পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।
ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা প্রাপ্ত হয়েছে। প্রথম দফার বরাদ্দ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে এবং নতুন বরাদ্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খাদ্যসংকটে না পড়ে।
জেলা প্রশাসক জানান, উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে সাতকানিয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোটের প্রয়োজন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হয়েছে। স্পিডবোট পাওয়া গেলে পানিবন্দি মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং উদ্ধারকাজ আরও কার্যকর হবে। আপাতত নৌকার মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চলছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, রেড ক্রিসেন্ট, ইপসা (ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন), আনসার বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ে পৃথক বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এসব দল দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে নিজে মাঠে থাকার উপর জোর দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, তিনি লালখান বাজার, পোড়া পাহাড় ও ১ নম্বর ঝিলসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেসব অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়েছে, পাশাপাশি শুকনো এবং রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য চিড়া, মুড়ি, গুড়, শিশুদের জন্য মাফিন, কেক, বিস্কুট, ওরস্যালাইন এবং পাঁচ লিটার করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে প্রায় আট হাজার মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা ও প্লাবিত জনপদের বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ, মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন