প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরগুনার উপকূলীয় এলাকায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাতাকাটা গ্রামে কমেনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রভাব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার বাসিন্দা নাসিম সিকদার ও তার ভাই রিয়াজ সিকদারের গড়ে তোলা সশস্ত্র বাহিনীর চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং লাগাতার হুমকিতে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, নাসিম সিকদার ও রিয়াজ সিকদার সাবেক বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবিরের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অনিকের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বরগুনা পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাসাবাড়িতে হামলার পেছনে এই দুই ভাইয়ের সরাসরি ইন্ধন ও নেতৃত্ব ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হলেও পাতাকাটা গ্রামে দুই ভাইয়ের দাপট কমেনি। তারা জোরপূর্বক মানুষের বসতবাড়ি ও জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং পুকুর থেকে মাছ ধরে বিক্রির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। এমনকি প্রতিবাদ করতে গেলে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে হামলা চালানো এবং সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রিয়াজ সিকদার বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করলেও সেখান থেকে কলকাঠির মাধ্যমে দেশে থাকা ক্যাডার বাহিনীকে বিভিন্ন অপকর্মের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এতে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অপমান-অপদস্থ হচ্ছেন, ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ।
ভুক্তভোগী পাতাকাটা গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস মৃধা বলেন, সরকারের পতন হলেও এই দুই ভাইয়ের অত্যাচার থামেনি। আমার পৈতৃক ভিটেমাটি এবং আদালতের রায় আমার পক্ষে থাকা সত্ত্বেও তারা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে প্রভাবিত করে জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, মানুষকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা এবং মিথ্যা অপবাদ ছড়ানোর কাজেও তারা জড়িত। আমরা অবিলম্বে এই দুই ভাইয়ের বিচার চাই।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন এই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে। অন্যথায় ভবিষ্যতে গ্রামে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই নিতে হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাসিম সিকদারের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, সার্বিক বিষয়ে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তাকেও ফোনে পাওয়া যায়নি।
(প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়াবলি স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত কাম্য।)
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন