প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টির ফলে কুষ্টিয়া শহরের অধিকাংশ স্থানে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর হঠাৎ করে শুরু হওয়া এই বর্ষণে শহরের প্রধান সড়ক এবং অলিগলিতে কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও গোড়ালি সমান পানি জমে যায়। এতে সাধারণ পথচারী, শিক্ষার্থী এবং জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। জলাবদ্ধতার কারণে শহরে যান চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি জমে শহরের এনএস রোড, কোর্টপাড়া, কলেজ মোড় এবং হাসপাতাল মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক ও সংযোগস্থলে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল কার্যত থমকে যায়। পানিতে সড়ক তলিয়ে থাকায় কোথায় খানাখন্দ আর কোথায় সমতল তা বুঝতে না পেরে পথচারীরা প্রতিনিয়ত হোঁচট খান।
মোটরসাইকেল চালক ও রিকশাযাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। অনেককে বাধ্য হয়ে জুতা হাতে নিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় শহরের কয়েকটি এলাকায় সাময়িক যানজট সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনের অংশে পানি জমে থাকায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে আসে। বিশেষ করে নিচু এলাকার সড়কগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি থেমে গেলেও জলাবদ্ধতা দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হচ্ছে, যা শহরের একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং সড়কের স্থায়িত্ব কমে গিয়ে যান চলাচলের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
শহরের এনএস রোডে পথচারী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। আজ মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাস্তার যে হাল হয়েছে, তাতে হাঁটাচলাই কঠিন। পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার ব্যবস্থা না করলে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই।" কলেজপড়ুয়া সুমাইয়া আক্তার জানান, বৃষ্টির মধ্যে বের হয়ে নোংরা পানিতে তার পোশাক ও জুতা ভিজে গেছে। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন, "সামান্য বৃষ্টিতে এই হাল হলে টানা বর্ষণে শহরের কী অবস্থা হবে।" রিকশাচালক আব্দুল হালিম জানান, পানিতে ডুবে থাকা রাস্তার গর্ত বুঝতে না পারায় রিকশা চালাতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। মোস্তাক আহমেদ নামের আরেক বাসিন্দা জানান, "ভারী বৃষ্টি হলেই শহর পানিতে তলিয়ে যায়, অথচ বছরের পর বছর এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।"
এদিকে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় মোট ৩০ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো কুষ্টিয়ায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে শহরের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।
জনদুর্ভোগ ও স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদি হাসানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, "বর্তমানে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বৃষ্টি থামার পর সড়ক থেকে পুরোপুরি পানি সরে যেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ড্রেনের সংস্কার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়ে গেলে আগামীতে শহরে আর কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন