প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ‘আগ্রাসন প্রতিহত করার’ উদ্দেশ্যে ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের এক ডজনেরও বেশি মিত্র দেশ সোমবার বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে।
এটি সম্পর্কে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইন্দোনেশিয়া একটি নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। এই নীতি দেশটি ‘স্বাধীন ও সক্রিয়’ হিসেবে বর্ণনা করে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে দেশটি কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে চলছে।
চলতি মাসে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি চীনের সঙ্গে যৌথ নৌ মহড়ায় অংশগ্রহণ করেছে। এই মহড়াকে তাইওয়ান ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে সমালোচনা করে।
ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং কিছু মিত্র দেশ প্রায় দুই দশক ধরে ‘সুপার গারুদা শিল্ড’ নামে পরিচিত এই বার্ষিক সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করে আসছে।
এবারের মহড়ায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জাপানসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪ হাজার ৭০০ সেনাসদস্য অংশ নিচ্ছেন। সুমাত্রা এবং বোর্নিও দ্বীপসহ ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্থানে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই মহড়া চলবে।
পূর্ব তিমুর, ইতালি, থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ মহড়ায় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডার প্যাট্রিক জে. এলিস মন্তব্য করেছেন, ‘এই মহড়া ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে নিরাপদ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক ও সামরিক সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
জাকার্তার পূর্বাঞ্চলের বান্দুং শহরের একটি সামরিক স্কুলে মহড়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এলিস বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল। কোনো সংকট শুরু হওয়ার পর হঠাৎ করে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি আরও জানান, মহড়ায় বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের শত্রুপক্ষের এলাকায় প্রবেশের প্রশিক্ষণ এবং সাইবার প্রতিরক্ষা মহড়াও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এপ্রিল মাসে, ইন্দোনেশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে ‘বৃহৎ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অংশীদারিত্ব’ বা ‘মেজর ডিফেন্স কো-অপারেশন পার্টনারশিপ’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
এলিস সোমবার বলেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকা ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। এই প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব তারই প্রমাণ।
চীনের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী চলতি মাসে ইন্দোনেশিয়া সফর করেন। তারা ইন্দোনেশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন।
চলতি বছরের শেষ দিকে, ইন্দোনেশিয়া এবং চীন ‘হেপিং গারুদা’ নামে নিজেদের একটি যৌথ সামরিক মহড়া আয়োজন করবে। এটি একটি নিয়মিত আয়োজন, যার মূল লক্ষ্য মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
গত বছর, রাশিয়া এবং চীনসহ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসে যোগ দেয় ইন্দোনেশিয়া। তবে একই সময়ে, দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করেন এবং ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এও যোগ দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন