প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লায় আলোচিত জান্নাতুন তাজমীন (১৫) হত্যা মামলার কেন্দ্রীয় ব্যক্তি রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু চৌধুরীকে নিয়ে কক্সবাজারে এক দিনের ব্যবধানে ঘটেছে নাটকীয় ঘটনা। স্থানীয় জনগণের হাতে আটক হওয়ার পর তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনার মধ্যে তাজমীন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার অধিযাচনপত্রের মাধ্যমে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আবার কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ফেরত পাঠানো হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করে থানা-পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) এসব ঘটনা ঘটে। তাজমীনের সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয়, তাদের যোগাযোগ এবং কক্সবাজারে একসঙ্গে অবস্থানের তথ্য যাচাই করতে কুমিল্লা ডিবি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ফেরত দেওয়ার কারণ এবং এ সময় কী তথ্য পাওয়া গেছে, তা স্পষ্ট করেনি সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করা হয়। সদর মডেল থানার পুলিশের আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাজমীন হত্যার ঘটনায় গণমাধ্যমে রাজুর নাম আসার পর স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা বা এজাহার না থাকায় এবং ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রাজুকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এরপর সোমবার সকালে তাজমীন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসির কাছে অধিযাচনপত্র দেন। এতে রাজুকে গ্রেফতার করে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
অধিযাচনপত্রে বলা হয়, তাজমিনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার আনুমানিক দুই দিন আগে কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সময় রাজুর সঙ্গে তার দেখা-সাক্ষাৎ এবং ঘটনার আগে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া যায়।
তাজমীনের সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয় ও সম্পর্কের ধরন, যোগাযোগের কারণ, ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের কথাবার্তা এবং হত্যা মামলার বিষয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য রয়েছে কিনা- তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে অধিযাচনপত্রে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা ডিবির একটি দল কক্সবাজারে এসে রাজুকে নিয়ে তদন্তের বিভিন্ন বিষয় যাচাই করে। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিকাল পাঁচটার দিকে তাকে সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। পরে ডিবির দলটি সেখান থেকে চলে যায়।
কেন তাকে ফেরত দেওয়া হলো, জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া গেল এবং তদন্তে নতুন কোনো সূত্র মিলেছে কিনা- তা জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পবিত্র সরকারের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কুমিল্লার পুলিশ রাজুকে নিতে যায়নি। তাকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল। হোটেল-সংক্রান্ত কিছু বিষয়েও তদন্তের প্রয়োজন ছিল। সেসব যাচাই করে তাকে আবার কক্সবাজার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাজমীনের বাবা-মা রাজুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দিতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে দিতে পারবেন।
অন্যদিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, অধিযাচনপত্র অনুযায়ী রাজুকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু কুমিল্লা ডিবির সদস্যরা তাকে আবার ফেরত দেওয়ায় পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ আদালতে সোপর্দ করেছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন