প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার “গরিবের বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থা”-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, আর্থিক লেনদেনে অসঙ্গতি এবং জিআর চাল গ্রহণ ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন মোঃ রাজিব খান।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কাঠালিয়া উপজেলার সাংবাদিক এইচ এম বাদল হাওলাদারের সংশ্লিষ্টতায় “গরিবের বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থা” পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রায় দুই বছর আগে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এর উদ্বোধন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংগঠনের নামে আমুয়া খাদ্য গুদাম থেকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল নেওয়া হয়। কী বিধি-বিধানের আওতায় এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে এসব চাল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া কাঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে। সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ, উৎস ও ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণ করা হয় কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সংগঠনটি পূর্বে নিবন্ধনবিহীন অবস্থায়ও জিআর চাল গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে পুনরায় জিআর চাল গ্রহণের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, সরকারি বরাদ্দের জিআর চাল প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে যথাযথভাবে বিতরণ না করে অন্যত্র বিক্রি বা অনিয়মের মাধ্যমে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে, সাংবাদিক এইচ এম বাদল হাওলাদার তার নিজস্ব ফেসবুক লাইভে দাবি করেছেন যে, তিনি নিজস্ব অর্থায়নে “গরিবের বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থা” পরিচালনা করেন। অপরদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে সংগঠনের কার্যক্রমের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের জন্য তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী মোঃ রাজিব খান বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে সংগঠনের নিবন্ধন, অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের হিসাব, জিআর চালের বরাদ্দ, উত্তোলন, সংরক্ষণ ও বিতরণসংক্রান্ত নথিপত্র তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে তার কাছে থাকা ভিডিও, ডকুমেন্টস, অর্থ সংগ্রহ সংক্রান্ত তথ্য ও কল রেকর্ড তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সরবরাহ করা হবে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও সাংবাদিক এইচ এম বাদল হাওলাদারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন