প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী সরদার মুহাম্মদ ইউসুফ সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো এবং ওমরাহযাত্রীদের বিরুদ্ধে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো হামলাকে পাকিস্তানের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করে ইসলামাবাদ, যা বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় আসে।
মঙ্গলবার ইসলামাবাদের ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউসুফ আরব নিউজকে সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন পাকিস্তানের বিভিন্ন ধর্মীয় দলের শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্যরা, যারা সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনা এবং তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন এবং আরও ১১ জন আহত হন।
আরব নিউজকে ইউসুফ বলেন, পাকিস্তান সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা থেকে আলাদা করে দেখে না। তিনি উল্লেখ করেন, “সৌদি আরবে যে-ই হামলা চালাক না কেন, আমরা তাকে পাকিস্তানের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করি।”
তিনি আরও বলেন, “হারামাইন শরিফাইন (মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদ) এবং হিজাজে মুকাদ্দাসকে (পবিত্র মক্কা ও মদিনা) দুর্বল করার উদ্দেশ্যে চালানো হামলা কোনো মুসলমানই মেনে নিতে পারেন না।”
সৌদি আরবকে সহযোগিতায় পাকিস্তান বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য হলো সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ইউসুফ ওমরাহ পালন করতে যাওয়া যাত্রীদের লক্ষ্য করে হামলারও তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এসব ধর্মপ্রাণ মানুষ কারো জন্য কোনো হুমকি ছিল না।
তিনি বলেন, “ওমরাহযাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। মুসলমান হিসেবে এটি আমাদের বিশ্বাসের অংশ। যারা ওমরাহ বা হজ পালন করতে যান, তারা নিজেদের পাপের ক্ষমা চাইতে যান। তারা কারো সঙ্গে যুদ্ধ করতে কিংবা কাউকে আক্রমণ করতে যান না।”
পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ধর্মীয় দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবের প্রতি সমর্থনের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইউসুফ বলেন, “সময় এলে সৌদি আরবের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিশ্বের মুসলমানরা, বিশেষ করে পাকিস্তানের জনগণ জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের সরকার ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং শান্তি নিশ্চিত করতে নেওয়া সব পদক্ষেপের প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ
আরএ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন