প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর শান্তিনগরে গৃহকর্মী দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি বাসা থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আসমা আক্তার।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আসমা আক্তার সম্প্রতি কানাডা থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। তার বাসায় নিয়মিত একজন গৃহকর্মী কাজ করেন। এছাড়াও, তার বাসার দুই নিরাপত্তাকর্মী শহীদুল ও আনোয়ার গত তিন থেকে চার বছর ধরে সেখানে কর্মরত আছেন। তবে, এই নিরাপত্তা কর্মীরাই বাসার নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বারবার তাদের বলা সত্ত্বেও বাইরের লোকজন ঢুকে পড়ে এবং গেটে প্রবেশের কোনো রেকর্ড রাখে না। তাদের দাপটে মালিকদের নিরাপদে থাকতে সমস্যা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী আসমা আক্তার জানান, গত ১৯ অক্টোবর শহীদুল তাকে জানান যে একজন বয়স্ক নারী কাজ খুঁজছেন। নিরাপত্তাকর্মী ওই নারীকে গৃহকর্মী হিসেবে রাখার বিষয়ে জানতে চান। পরবর্তীতে শহীদুল ওই নারীকে নিয়ে আসতে বলেন।
তিনি বলেন, পরদিন ২০ অক্টোবর সকালে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে শহীদুল ফোন করে জানান যে ওই নারী এসেছেন। এরপর দুই নারী আসমার বাসায় আসেন। তাদের নাম ও বেতনের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার পর আসমা তাদের একজনকে বিকেলে পরিচয়পত্র ও ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে আসতে বলেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই নারী জানান তার নিজের ফোন নেই; বরং তার স্বামীর ফোন রয়েছে এবং তিনি অটোরিকশা চালান। শহীদুল ওই নারীকে ভালোভাবে চেনেন না জানালে আসমা নিরাপত্তাকর্মীদের গেটের দিকে নজর রাখতে বলেন, যাতে ওই নারী বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন।
আসমার অভিযোগ, তিনি পুরো ঘটনাটি বুঝতে পারেননি যে এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা ছিল। তার দাবি, তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর শহীদুল আবার ওই নারীকে খবর দিয়ে বাসায় আনেন, কারণ তিনি জানতেন যে এ সময় তার অসুস্থ স্বামী রয়েছে এবং বাসার সবাই ঘুমাচ্ছে, ফলে সব দরজা খোলা ছিল। এ সময় বাসায় আসা নারীদের একজনের সঙ্গে অপর একজন অপরিচিত ব্যক্তির যোগাযোগ ও দীর্ঘ সময় অবস্থানের বিষয়টি তার নজরে আসে। পরে বাসায় থাকা এক নারী মুখে মাস্ক পরে মোবাইল ফোন নিয়ে বেরিয়ে যান। আরেক নারীও বাসা থেকে বেরিয়ে যান।
তার দাবি, দ্বিতীয় নারী নিরাপত্তাকর্মী আনোয়ারের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলেও তিনি বাধা দেননি। এ ঘটনায় আনোয়ারের ভূমিকা নিয়েও আসমা প্রশ্ন তুলেছেন।
আসমা আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজে শহীদুলের সঙ্গে কথা বলার পর এক নারীকে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যায়। শহীদুল ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও সে প্রায় চার মিনিট পর নিজে ওপরে উঠে। এই সময়ের মধ্যেই মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
আসমা আক্তার আরও বলেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে পল্টন থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পুলিশি তদন্ত প্রয়োজন। সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করেই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন