প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নার্গিস আক্তার (৩৬) নামের এক নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ছয়জনের কাছ থেকে ১৮ হাজার ও ১৬ হাজার টাকা করে মোট ৯৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দেড় মাস ধরে ‘আজ-কাল’ করে ঘোরানোর পর যখন তিনি আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করেন, তখন ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হয়। পরে কৌশলে বাকী টাকা দেওয়ার কথা বলে তাঁকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়ের বাজার এলাকার কৃষি ব্যাংকের সামনে এই ঘটনা ঘটে। নার্গিস আক্তার ওই ইউনিয়নের মৃগালী গ্রামের বাসিন্দা এবং তাঁর স্বামী খোকন আলী।
অভিযোগকারী ছয়জন হলেন নান্দাইল উপজেলার কামারগাঁও ইউনিয়নের দোরুয়া গ্রামের হোসনে আরা বেগম (৩২), রাবেয়া খাতুন (৫০), জোসনা খাতুন (৩০), আছিয়া খাতুন (৫৬), তন্নী আক্তার লিমা (৩৫) ও কনক মিয়া (৩৬)।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে নার্গিস তাঁদের ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে রাবেয়া খাতুন ১৮ হাজার টাকা এবং বাকি পাঁচজন ১৬ হাজার টাকা করে দেন। টাকা নেওয়ার পর দেড় মাস ধরে নার্গিস তাঁদের ‘আজ হবে, কাল হবে’ বলে ঘোরাতে থাকেন। এক পর্যায়ে কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিনি আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করেন।
রাবেয়া খাতুন ও কনক মিয়া বলেন, ‘আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। দেড় মাস ঘোরানোর পর আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করলে আমরা বুঝতে পারি, তিনি প্রতারণা করছেন। পরে বাকি টাকা দেব বলে তাঁকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘গত সোমবার আমি প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারি। পরে বুদ্ধি খাটিয়ে প্রতারকের দাবি করা বাকি ৪ হাজার টাকা নেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে নার্গিসকে আঠারবাড়ীতে আসতে বলা হয়। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আমাদের নাম ভাঙিয়ে নার্গিস এই প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।’
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই নারীকে থানা-পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন