প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীন তাইওয়ানের আশপাশে নৌযানের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। তাইপে অভিযোগ করেছে যে, এর মাধ্যমে তাইওয়ান প্রণালিতে বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বেইজিং।
তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, তারা চীনের ১৬টি উপকূলরক্ষী, গবেষণা ও মাছ ধরার নৌযানকে বাধা দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছে। হিরু নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের অভিযোগ, এসব নৌযান একসঙ্গে সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে চাপ তৈরির চেষ্টা করছিল।
রবিবার এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, চীনের অস্বাভাবিকসংখ্যক নৌযান তাইওয়ানের প্রধান দ্বীপ এবং এর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রাতাস দ্বীপের আশপাশে একসঙ্গে অভিযান চালাচ্ছিল। উল্লেখ্য, প্রাতাস দ্বীপটি দংশা নামেও পরিচিত এবং এটি নিয়ে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
চীনের ১৬টি নৌযানের মধ্যে চারটি মাছ ধরার নৌকা ছিল। তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী এ ধরনের সমন্বিত অভিযানকে ‘বহুমুখী যুদ্ধকৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, চীনের নৌযানগুলোর তৎপরতা মোকাবেলায় তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেয় তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী। তাদের অভিযোগ, বেইজিং তাইওয়ান প্রণালিতে একতরফাভাবে বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে এবং ওই এলাকায় চীনের কর্তৃত্ব রয়েছে এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের কয়েকটি নৌযান তাইওয়ানের নির্ধারিত সীমিত প্রবেশাধিকারের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। চীন তাইওয়ান ও প্রাতাস দ্বীপকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। বেইজিং এসব এলাকার আশপাশের জলসীমার ওপরও নিজেদের কর্তৃত্ব দাবি করে। তবে তাইপে এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণ নিতে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছে।
গত ১ অক্টোবর, প্রাতাস দ্বীপের কাছে চীনের একটি বিনোদনমূলক মাছ ধরার নৌযান লক্ষ্য করে পানির কামান ছোড়ে তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী। দ্বীপটি তাইওয়ান ও চীনের মূল ভূখণ্ডের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত এবং বেইজিং দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে।
গত কয়েক মাসে তাইওয়ানের আশপাশে সমুদ্রপথে চীনের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাইওয়ানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে দেশটির প্রধান দ্বীপের আশপাশে চীনের ২৪৪টি উপকূলরক্ষী, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অন্যান্য নৌযানের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়, যা ছিল রেকর্ডসংখ্যক। গত বছরের একই মাসে এ সংখ্যা ছিল ৫৮টি।
চলতি বছরের আগস্টের প্রথম ২১ দিনে তাইওয়ানের আশপাশে ১৫২টি নৌযানের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এসব নৌযানের বেশিরভাগই ছিল চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনীর। এর পাশাপাশি মাছ ধরার নৌকা ও গবেষণার কাজে ব্যবহৃত নৌযানও ছিল।
প্রতিদিনই তাইওয়ানের আশপাশে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে চীন। তবে এসব যুদ্ধজাহাজের হিসাব অন্যান্য নৌযান থেকে আলাদাভাবে রাখা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন