প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক মুহূর্তের আগুনের তাণ্ডবে পুড়ে গেছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সংসার, বসতঘর ও সঞ্চিত সবকিছু। আগুনের লেলিহান শিখায় শেষ হয়ে গেছে দুটি পরিবারের স্বপ্ন। মঙ্গলবার দুপুরে মিঠামইনের গিরিশপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে স্বজনদের আর্তনাদ, আগুনের ভয়াবহতা ও ধোঁয়ার কু-লীর মধ্যে নেমে আসে এক দুঃখজনক অবস্থা।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে সিলিন্ডার গ্যাসের চুলা থেকে লাগা ভয়াবহ আগুনে দুটি পরিবারের বসতবাড়ি ও সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, অগ্নিকা-ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলার মিঠামইন বাজারসংলগ্ন গিরিশপুর গ্রামে এই অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে গিরিশপুর গ্রামের নূর হোসেন মিয়ার বাড়িতে সিলিন্ডার গ্যাসের চুলায় রান্নার সময় হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘরের বিভিন্ন অংশে। পরিবারের লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের ভয়াবহতার কাছে তা সম্ভব হয়নি।
একপর্যায়ে আগুন নূর হোসেন মিয়ার বাড়ি থেকে পাশের দিলীপ চৌধুরীর বাড়িতেও ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই দুটি বাড়ি পরিণত হয় আগুনের গ্রাসে। একে একে পুড়তে থাকে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় মালামালসহ সংসারের সবকিছু। আগুনের তীব্রতায় স্থানীয়দের চোখের সামনেই শেষ হয়ে যায় দুই পরিবারের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও সাজানো সংসার।
আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র ছিল যে, তাদের চেষ্টা সফল হয়নি। পরে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে।
খবর পেয়ে মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দুটি পরিবারের বসতবাড়ি ও ঘরের অধিকাংশ মালামাল।
আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গিরিশপুরের ওই দুই পরিবারের জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। আগুন শুধু তাদের ঘরবাড়িই পুড়িয়ে দেয়নি, মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে বহুদিনের সঞ্চয় ও সাজানো সংসারের স্মৃতি। এখন পোড়া ঘরের ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি পরিবার দুটি।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরে মিঠামইন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিকা-ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব নেন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম জানান, অগ্নিকা-ে নূর হোসেন মিয়ার প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। একই ঘটনায় দিলীপ চৌধুরীর প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মিঠামইন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রোস্তম আলী বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে সিলিন্ডার গ্যাসের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন