প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের মণিপুরে সহিংসতার নতুন ঘটনার ফলে গুলিতে দুই নাগা বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। খবর এনডিটিভির
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেনাপতি জেলার কালেনজাং এলাকায় গ্রামের প্রধানের একটি বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। সশস্ত্র হামলাকারীরা বাড়ির ভেতরে অবস্থানরত লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
পুলিশ খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। তবে হামলার কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত দুজনের নাম রকি ও কুমার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা সেনাপতি জেলার দুটি ভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। আহত দুজনের পরিচয় এবং বর্তমান শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, হামলার পেছনে কুকি সম্প্রদায়ের সদস্যরা থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে সরকারি কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মণিপুরে তিন দিনের মধ্যে নাগা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এটি দ্বিতীয় হামলার ঘটনা। এর মাত্র দুই দিন আগে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে কামজং জেলায় সশস্ত্র হামলায় চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। পরপর এসব ঘটনার ফলে নাগা বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে গেছে।
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউম্নাম খেমচাঁদ সিং হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে নিরীহ মানুষের ওপর ‘কাপুরুষোচিত সহিংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় আহত দুজনকে সেনাপতির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
ঘটনার সময় মুখ্যমন্ত্রী ইউম্নাম খেমচাঁদ সিং ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে মাও এলাকায় ছিলেন। সেখানে তিনি মারাম এলাকার ডন বস্কো কলেজের রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এদিকে কালেনজাংয়ে হামলার দিনই ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল কেন্দ্রীয় সরকার ও মণিপুর সরকারের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পর সাময়িকভাবে অর্থনৈতিক অবরোধ স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে।
গত মে মাসে অপহরণের পর ছয় নাগা যুবকের হত্যার ঘটনায় বিচারের দাবিসহ বিভিন্ন দাবিতে ওই অবরোধ শুরু হয়েছিল।
তবে নতুন হামলার পর মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে ফের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন