প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানী জাকার্তায় পার্লামেন্ট ভবনের সামনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ছিল দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো।
গত বছরের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এই কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়। ২০২৫ সালের ওই বিক্ষোভ সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেয়, যার ফলে প্রায় ১০ জনের মৃত্যু ঘটে এবং প্রায় ৭ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পার্লামেন্ট ভবনের প্রধান ফটকের বাইরে বিক্ষোভকারীদের আটকে রাখে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ। পার্লামেন্ট ভবনের ফটকও বন্ধ রাখা হয়। তবে রাতের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুঁড়তে শুরু করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। এ সময় পুলিশের একটি পোস্ট এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। আহত কয়েকজনকে স্ট্রেচারে করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শুধু জাকার্তায় নয়, দেশের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। যোগ্যাকার্তা ও মাকাসার শহরে শিক্ষার্থীরা মিছিল করেন।
দুর্নীতির সম্পদ জব্দের আইন পাসের দাবি জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সম্পদ রাষ্ট্রের জব্দ করার ক্ষমতা নিশ্চিত করতে একটি বিল পার্লামেন্টে পাস করা। এই বিলটি প্রথম ২০০৮ সালে পার্লামেন্টে তোলা হয়েছিল, কিন্তু এত বছর পরও এটি আইনে পরিণত হয়নি। বিক্ষোভকারীরা মনে করেন, বিলটি পাস হলে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্র জব্দ করতে পারবে, যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে। সমাবেশে কিছু বিক্ষোভকারী দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবিও জানান।
বিক্ষোভের মধ্যে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের একটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কয়েকজন আইনপ্রণেতা বৈঠক করেন। ‘ইউনাইটেড পাতি কমিউনিটি অ্যালায়েন্স’ নামের সংগঠনটির প্রতিনিধিরা বৈঠকে দুর্নীতি দমন আইন দ্রুত পাসের দাবি জানান। সংগঠনটির নেতা সোপ্রিয়ানো জানান, আইনপ্রণেতারা তাদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিলটি পাস না হলে তারা পদত্যাগ করবেন। তবে এ বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি সরকারের বিনা মূল্যের স্কুলের খাবার কর্মসূচি নিয়েও আপত্তি জানান। কর্মসূচিটিতে বারবার খাবারে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটায় তারা এটি বাতিলের দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা ইন্দোনেশিয়ার সমাজে ‘সামরিকীকরণ’ বন্ধ করার দাবি জানান। খাবারের দাম কমানোর দাবিও ছিল তাদের। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একজন প্রতিনিধি রয়টার্সকে বলেন, গত বছরের সহিংসতার স্মরণে ২৭ আগস্টকে বিক্ষোভের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ‘আমরা ২৭ আগস্টকে স্মরণ করার জন্য বেছে নিয়েছি। কারণ গত বছর এই দিনে দাঙ্গা ও আরও বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। আর আজ আমরা আমাদের দাবি জানাতে চাই, দাঙ্গা করতে চাই না।’ শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা গত বছরের মতো পরিস্থিতি চান না। শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। বিক্ষোভের কারণে জাকার্তায় আগে থেকেই বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ। জাকার্তা পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ মিছিল শুরুর আগে শহরে ১৮ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
পুলিশের মুখপাত্র বুদি হারমানতো জানান, বিক্ষোভের আগে ‘উসকানিদাতা’ সন্দেহে ৬৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এত বড় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পরও রাতের দিকে বিক্ষোভের একটি অংশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। গত বছরের সহিংস বিক্ষোভের বর্ষপূর্তিতে এবারের কর্মসূচিকে ঘিরে শুরু থেকেই উত্তেজনা ছিল। দুর্নীতি দমন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, শিক্ষার্থীদের দাবি এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে অসন্তোষ- সব মিলিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় আবারও রাজপথে চাপ বাড়ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন