প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, চিকিৎসা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন আগামী পঞ্চাশ বছরের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে ঘটাতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা কেউ চিরদিন থাকবো না, এ দেশ থাকবে এবং এ দেশের মানুষ থাকবে; তাই আগামী পঞ্চাশ বছরের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে হবে।’
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) প্রথম অপেন হার্ট সার্জারি দিবস এবং কার্ডিওভাসকুলার সার্জিক্যাল কনফারেন্স অব এনআইসিভিডি-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে প্রদান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তবে রাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক সংগতির বিষয়টিকেও বাস্তবসম্মতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
ডা. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, দেশে হৃদরোগ ও জন্মগত হৃদরোগের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি সতর্ক করেন যে, এ রোগ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে উৎপাদনশীল কর্মক্ষম জনসংখ্যার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। সরকার ইতোমধ্যে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ভাল্ব এবং স্টেন্ট (রিং)-এর ওপর ট্যাক্স মওকুফ করে হৃদরোগ চিকিৎসার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে চেষ্টা করছে।
মন্ত্রী দাবি করেন, দেশে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হওয়ায় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণের প্রবণতা অনেকাংশেই কমে এসেছে। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এবং জনকল্যাণে বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সরকারের পাশাপাশি এ সকল মানবিক কাজে সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে হৃদরোগের সব ধরনের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ের অনিয়ম কাটিয়ে বর্তমান সরকার জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার অংশ হিসেবে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে, মন্ত্রী একটি বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন।
বিশ্বে ওপেন হার্ট সার্জারির সূচনা ঘটে ১৯৫৩ সালে ডা. জন হেইশাম গিবনের হাত ধরে। এর ধারাবাহিকতায়, ১৯৮১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার এনআইসিভিডিতে কার্ডিও-পালমোনারি বাইপাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম সফল ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়। ঐতিহাসিক এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছর দেশে ১৮ সেপ্টেম্বর দিবসটি উদযাপন করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন