প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রদত্ত ভিডিও বার্তায় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস মন্তব্য করেছেন যে, ফিলিস্তিনিরা তাদের মাতৃভূমি ত্যাগ করবে না এবং বাস্তুচ্যুতির বিষয়টিও মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার অন্য কাউকে হস্তান্তর করবে না।
ফিলিস্তিনের জনগণের উদ্দেশে বক্তব্যে আব্বাস উল্লেখ করেন, নিজেদের ভূমি, ঐক্য এবং বৈধ অধিকার রক্ষা করে ফিলিস্তিনিরা গর্ব ও মর্যাদার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গত সেপ্টেম্বরে আরব ও ইসলামি দেশগুলোর নেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা জরুরি। এই প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল বা সংযুক্তিকরণ প্রতিরোধ করা এবং ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি প্রত্যাখ্যান করা।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের ভূমি দখলের কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা এবং তাদের আর্থিক সম্পদ নিঃশেষ করার প্রচেষ্টার অংশ। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমিতে টিকে থাকার সক্ষমতা দুর্বল করা।
আব্বাস দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অবিচারের পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ফিলিস্তিনিদের হত্যা, ধ্বংস, অনাহার ও বাস্তুচ্যুতির চেষ্টার শিকার হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সময়ের মুখোমুখি।’
গাজায় চলমান যুদ্ধকে তিনি ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এই যুদ্ধে আবাসিক এলাকা, শহর, শরণার্থীশিবির, প্রতিষ্ঠান, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, মসজিদ এবং গির্জা ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের জীবনধারণের মৌলিক প্রয়োজন এবং পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আব্বাস। তিনি বলেন, সেখানে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, পশ্চিম তীরকে খণ্ডিত করা হচ্ছে এবং জেরুজালেমকে বিচ্ছিন্ন ও নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দখলদার বাহিনীর সুরক্ষায় বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভূমি দখল, বাড়িঘর ধ্বংস, চেকপোস্ট স্থাপন এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সশরীর উপস্থিত থাকতে পারেননি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তবে তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুমতি অনুযায়ী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৫২ ভোটে আব্বাসের ভার্চুয়াল বক্তব্যের অনুমতি দেওয়া হয়। বিপক্ষে ভোট পড়ে তিনটি; চারটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন