প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাটোরের লালপুর উপজেলায় মসজিদ কমিটি গঠন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আড়বাব ইউনিয়নের কারিগরপাড়া জামে মসজিদ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৮ থেকে ৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর কারিগরপাড়া জামে মসজিদের কমিটি গঠন এবং মসজিদের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আফসার আলী গ্রুপ এবং মসজিদ কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। যদিও ওই সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সেই বিরোধের জের ধরে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পরে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আড়বাব ইউনিয়নের কচুয়া বাজার এলাকা থেকে বিএনপিপন্থী নেতা কালু, যিনি আলাল মেম্বারের ছেলে, তার নেতৃত্বে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক আফসার আলীর পক্ষ নিয়ে কারিগরপাড়া এলাকায় অবস্থান নেন। পরে উভয় পক্ষের লোকজন মুখোমুখি হলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন-কচুয়া গ্রামের আলাল মেম্বারের ছেলে মিজানুর রহমান কালু (৪২), তার ছেলে মুন্না (১৮), অপর ছেলে শুভ (২৯), মাহাবুলের ছেলে মাহমুদুল হাসান (১৪), মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে চম্পা (৩৫), বড় শেরপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৮), কেশববাড়িয়া গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে বনি আমিন (২১), আনসার আলীর ছেলে মাহাতাব হোসেন (৩৮) এবং হাঁসবারিয়া গ্রামের আবুল হাশেম কবিরাজের ছেলে মাসুদ রানা (৪৫)।
আহতদের প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর মাসুদ রানার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মসজিদ কমিটি নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন