প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) বলেছেন, বাঙালি জাতিকে ভারতীয় প্রভুত্ব থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে দেশের নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা ব্যারেজসহ বিভিন্ন নদী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা অডিটোরিয়ামে অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান ও টিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সফলতার ধারাবাহিকতায় খুব শীঘ্রই নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ। উজান থেকে পানি পাঠিয়ে তারা যেভাবে আমাদের প্লাবিত করে, তিস্তা ব্যারেজের মাধ্যমে সেই পানি আটকে রেখে খরা মৌসুমে আমাদের দেশের কাজে ব্যবহার করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সুরমা নদীতেও আমরা ব্যারেজ ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করব। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হবে নিজস্ব অর্থায়ন এবং চীনের সহায়তায়। আমরা কাজের মাধ্যমে ভারতীয় দাসত্ব ও প্রভুত্ব থেকে বাঙালি জাতিকে রক্ষা করতে চাই।”
রাজনীতি ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে নই। আমরা অতীতে দেখা ফ্যাসিস্টদের মতো খুন, গুম, রাহাজানি, লুটপাট, চুরি বা টাকা পাচারের নীতিতে বিশ্বাস করি না। প্রত্যেকে নিজ নিজ মত প্রকাশ করবে—সেটাই গণতন্ত্র। তবে যারা ২০২৪-এর জুলাইয়ে আমাদের প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-যুব-জনতাকে হত্যা করেছে এবং যারা সংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ, তাদের কোনো প্রচারণা বরদাশত করা হবে না এবং তাদের সাথে কোনো আপস করা হবে না।”
দেশের সীমানা রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “বাংলাদেশ এমন এক ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে পরাশক্তি কোনো আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করলে তা দেশের মাটিতে বরদাশত করা হবে না। আমাদের ২০ কোটি মানুষই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ও শক্তি। আমাদের প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রায় দেশ চলছে। দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো আজ বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে, চিকিৎসকদের সুনাম তৈরি হয়েছে। এই অর্জিত সুনাম ও স্বাধীনতাকে কোনো ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্রকারী নষ্ট করতে পারবে না।”
অন্য দেশগুলোর সুবিধা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমরা ১৯৭১ সালে রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি অন্যের কাছে দাসত্ব করার জন্য নয়। আমাদের মাটি ব্যবহার করে অন্য দেশের ট্রেন বা বাস বিনা খাজনায় চলে যাবে, তারা আমাদের ট্যাক্স দিবে না বা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গাড়ি পরীক্ষা করতে পারবে না—এমন পরাধীনতার দিন শেষ। এই পরাধীনতার হাত থেকে দেশকে মুক্ত রাখাই আমাদের মূল অঙ্গীকার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন