প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারির উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছেন ক্ষমতাসীন জোটের দুই প্রধান শরিক, পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) শীর্ষ নেতারা। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন-এর বরাতে এ তথ্য জানা যায়। তবে সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রোববার (১১ অক্টোবর) ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান করেছেন। এছাড়া, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় পরিষদ ও সিনেটের পৃথক অধিবেশন আহ্বানের সিদ্ধান্তও নিয়েছে ক্ষমতাসীন জোট।
বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিবাদ মিছিলের কারণে কেন্দ্রীয় সরকার এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি সংঘাত এড়ানোর উপায় নিয়ে শনিবার প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজলের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা করার জন্য মধ্যস্থতা করছেন মাওলানা ফজলুর রহমান। তিনি পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান এবং আসাদ কায়সারের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ডনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পিটিআই প্রতিবাদ মিছিল অব্যাহত রাখলে সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি মন্তব্য করেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি এড়ানোর আর কোনো উপায় নেই। তিনি বলেন, "পিটিআইয়ের সঙ্গে সমঝোতার জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে, কিন্তু এখন আর কিছু করার নেই।"
তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার নিশ্চিত করেছেন, প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করতে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়েছে। তবে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি তিনি। স্বরাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরীও বলেছেন, বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে।
ডনের একটি সূত্র জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারির জন্য সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের আওতায় একাধিক পদক্ষেপ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও সংবিধানে এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক নয়, অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে অনুমোদন নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও নাশকতা মোকাবিলার জন্য নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশপ্রধান জুলফিকার হামিদ। প্রতিবাদ মিছিলের পথে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রদেশের সব ডেপুটি কমিশনার ও জেলা পুলিশপ্রধানকে নিজ নিজ জেলায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ, বহিঃশত্রুর আক্রমণ অথবা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে দেশের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হলে জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান রয়েছে। এই ক্ষেত্রে প্রাদেশিক পরিষদের প্রস্তাবের বিধান রয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিজ উদ্যোগে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে সংবিধান অনুযায়ী ১০ দিনের মধ্যে তা সংসদের উভয় কক্ষে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে হয়।
সংবিধানের ২৩৩ অনুচ্ছেদে জরুরি অবস্থার সময়ে নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক অধিকার স্থগিত করার ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ২৩৪ অনুচ্ছেদে কোনো প্রদেশে সাংবিধানিক ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়লে গভর্নরের শাসন জারির বিধান রয়েছে। এই ক্ষেত্রে প্রাদেশিক গভর্নরের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট সংবিধান অনুযায়ী প্রাদেশিক সরকারের কিছু বা সব ক্ষমতা নিজের হাতে নিতে পারেন অথবা গভর্নরের ওপর ন্যস্ত করতে পারেন। তথ্যসূত্র: দ্য ডন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন