প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভিন্ন ধরণের বার্তা প্রদান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ, সৌদি আরব এবং ইসরায়েল। একদিকে সৌদি আরব যুদ্ধের পরিস্থিতি শমন করা এবং সংঘাত কমানোর আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে চাপ বৃদ্ধি ও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চালু করার বিষয়টি আলোচনার জন্য টেবিলে তুলে ধরেছে।
গত বুধবার সকালে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান হোয়াইট হাউসে আকস্মিকভাবে সফর করেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বার্তা নিয়ে আসেন তিনি।
সূত্র বলছে, বৈঠকে সৌদি আরবের বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ টানাহিঁচড়া বন্ধ করে দ্রুতই উত্তেজনা কমানোর মাধ্যমে শেষ হওয়া উচিত। যুদ্ধের দীর্ঘায়িত হলে এর ফলে প্রাণহানির পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বড় ঝুঁকিতে পড়বে।
এর একদিন আগে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে ইরানের ওপর আরো চাপ প্রয়োগ এবং প্রয়োজন হলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ফের শুরুর বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করা হয়।
দুই বৈঠক পূর্বনির্ধারিতভাবে একই সময়ে না হলেও, ট্রাম্পের সামনে উঠে আসা জটিল কূটনৈতিক বাস্তবতাকে উন্মুক্ত করে দেয়।
যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার অঙ্গীকার থাকলেও, সংঘাত এখন আরও বিস্তৃত হয়ে উঠছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সকল দেশ এতে কোনও না কোনওভাবে জড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এখন অত্যন্ত ক্ষীণ।
যদিও ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির জন্য ‘অনুরোধ করছে’। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের অভ্যন্তরে শঙ্কা রয়েছে যে, তেহরান বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কৌশলগত চাপ হিসেবে ব্যবহার করছে এবং মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নীতি থেকে সরে আসার কোন তোলে।
সূত্রের দাবি, ইরানের অনমনীয় অবস্থান ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে বিরক্ত করেছে। তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন এবং মিত্র দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও উত্তপ্ত আলাপ করেছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার, ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্প মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে নতুন কৌশল নির্ধারণের জন্যেই এই বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে।
যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা শুধু জিততে চাই। তারা দুর্বল হবে, হয়তো কিছুটা শক্তিশালী হবে, তারপর আবার দুর্বল হবে এবং শেষ পর্যন্ত থেমে যাবে।’
এদিকে ইরানের হুমকির কারণে ট্রাম্পের সফরসূচিও পরিবর্তন করতে হয়েছে। চলতি মাসে তুরস্ক সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় নিরাপত্তার কারণে তার ব্যবহৃত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজ পরিবর্তন করা হয়।
অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের অনেক নেতা উদ্বিগ্ন যে, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের মেয়াদ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাবনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক এক সিএনএন জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ২৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।
চলমান সংকটের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর চাপের মুখে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে একটি স্বল্পমেয়াদি সমঝোতার চেষ্টা চলছে, যাতে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের জন্য এক থেকে দুই সপ্তাহ ব্যাপী বিমান হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করে বলেছেন, ‘শুধু বিমান হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।’
এদিকে রিপাবলিকান নেতা জ্বালানির দাম বৃদ্ধির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন সিএনএনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে সমাধানে ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’
হোয়াইট হাউসের দাবি, ইরান সমঝোতা ভঙ্গ করেছে এবং মার্কিন সেনা ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। অর্থবহ আলোচনায় না আসা পর্যন্ত তেহরানকে এর মূল্য দিতে হবে।
অন্যদিকে কাতার, পাকিস্তানসহ মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনা চালানোর চেষ্টা করলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন মূল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যেটা সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে পারে। তবে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এখনো কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আশাবাদী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন